ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে পুনর্বার পরীক্ষা দেওয়ার তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশা কেড়ে নিল আরও এক তরুণীর প্রাণ। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর জেলায় অনুকীর্তনা (১৯) নামের এক নিট পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিট পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে কোয়েম্বাটোরে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং তামিলনাড়ুকে এই পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিটি আবার জোরালো হয়ে উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৯ বছর বয়সী অনুকীর্তনা এর আগে ইতিমধ্যেই দু’বার নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং এবার তৃতীয়বারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, সম্প্রতি দেশজুড়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার জেরে প্রভাবিত পরীক্ষার্থীদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় টেস্টিং এজেন্সির পুনরায় পরীক্ষা (Re-test) নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।
এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “আরও একবার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার এবং অনিশ্চয়তার যে তীব্র গ্লানি ও হতাশা, সেটাই হয়তো এই তরুণীকে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।” ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার না হলেও, পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনার বিশদ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। এই আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোয়েম্বাটোরে সাধারণ মানুষ ও ছাত্র সমাজ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে দেশ থেকে বৈষম্যমূলক ‘নিট’ পরীক্ষা পুরোপুরি বাতিল করতে হবে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে চেন্নাইতে। তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে এই মৃত্যুর তীব্র নিন্দা করে রাজ্যজুড়ে এক বিশাল প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের দল পুনর্বার দাবি তুলেছে, তামিলনাড়ুর পড়ুয়াদের সুরক্ষার্থে এই রাজ্যকে নিট পরীক্ষার আওতা থেকে সম্পূর্ণ ছাড় দিতে হবে।
উল্লেখ্য, শুরু থেকেই নিট পরীক্ষার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে তামিলনাড়ু। তামিলনাড়ু সরকারের যুক্তি, এই পরীক্ষাটি মূলত শহরের ধনী পরিবারের সন্তানদের সুবিধা করে দেয়, যারা লাখ লাখ টাকা খরচ করে নামি কোচিং সেন্টারে পড়তে পারে। এর ফলে গ্রামের ও দরিদ্র পরিবারের অত্যন্ত মেধাবী পড়ুয়ারা, যারা দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল করে, তারাও এই প্রবেশিকার কঠিন ইঁদুরদৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে।
নিট চালু হওয়ার আগে প্রায় এক দশক ধরে তামিলনাড়ুতে কোনো প্রবেশিকা পরীক্ষা ছাড়াই কেবল দ্বাদশ শ্রেণীর মেধার ভিত্তিতে ডাক্তারি কোর্সে ভর্তি নেওয়া হতো। শিক্ষাবিদদের মতে, সেই পুরোনো ব্যবস্থাই গ্রামীণ এবং সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য চিকিৎসা শাস্ত্রের দরজা অনেক সহজ করে দিয়েছিল, যা বর্তমান নিট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। অনুকীর্তনার এই অকালমৃত্যু ভারতের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার সেই বিতর্কিত ক্ষতকে আরও একবার উস্কে দিল।
