TOP NEWS

ব্যাংকের লকার থেকে গায়েব কোটি টাকার সোনা: উত্তরপ্রদেশে ম্যানেজারের বিরুদ্ধে এফআইআর

(Representation Image)

ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লকারও আর নিরাপদ নয়! উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ জেলায় ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার একটি শাখা থেকে গ্রাহকদের বন্ধকি সোনার অন্তত ৯৬টি প্যাকেট গায়েব হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, গায়েব হওয়া এই সোনার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। এই ঘটনায় ওই ব্যাংকের তৎকালীন ম্যানেজারসহ তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘ক্রিমিনাল ব্রিচ অফ ট্রাস্ট’ বা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজাবাদ জেলার আরাঁও থানা এলাকার অন্তর্গত ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ভারৌল শাখায় এই জালিয়াতি ঘটেছে। ব্যাংকের ওই শাখার মূল চাবির হেফাজতকারী দিলীপ কুমার নামের এক কর্মী গত ২৭ মে থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান। চাবি না থাকায় ব্যাংকের লকার ও সোনার লোন সংক্রান্ত সমস্ত কাজ থমকে যায়। টানা কয়েকদিন তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ব্যাংকের বর্তমান কর্তৃপক্ষের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধে। বিষয়টি আগ্রার আঞ্চলিক কার্যালয়কে জানানো হলে, গত ১৫ জুন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা আধিকারিকদের একটি দল ভারৌল শাখায় পৌঁছায়।

ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবী শিব কুমার শর্মার উপস্থিতিতে এবং সম্পূর্ণ ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে লকারটির জন্য একটি ডুপ্লিকেট (নকল) চাবির ব্যবস্থা করা হয়। এরপর লকারটি খুলতেই ভেতরে থাকা গ্রাহকদের বন্ধকি সোনার সুরক্ষায় বড়সড় গলদ ধরা পড়ে। দেখা যায়, লকারের ভেতর থেকে সোনার লোনের মোট ৯৬টি প্যাকেট সম্পূর্ণ উধাও। এই ঘটনার পরেই ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার আগ্রা আঞ্চলিক কার্যালয়ের চিফ ম্যানেজার আদিত্য প্রতাপ সিং বুধবার রাতে আরাঁও থানায় গিয়ে তিন ব্যাংক কর্মীর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করেন।

ফিরোজাবাদের পুলিশ সুপার আদিত্য লাংহে জানিয়েছেন, ব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৬(৫) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন, ব্যাংকের তৎকালীন বা প্রাক্তন শাখা ম্যানেজার সন্দীপ যাদব, ব্যাংকের কর্মী তথা লকারের চাবি রক্ষক দিলীপ কুমার ও ব্যাংকের ক্রেডিট অফিসার নরেশ কুমার।

আরাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঋষি কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে পুলিশের একটি বিশেষ দল ও সার্ভিল্যান্স ইউনিট গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে এবং গ্রাহকদের খোয়া যাওয়া কোটি কোটি টাকার সোনা উদ্ধার করতে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের একাধিক এলাকায় জোরদার অভিযান ও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। সরকারি ব্যাংকের ভেতরের কর্মীদের এই ধরণের জালিয়াতি সাধারণ গ্রাহকদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!