ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: জল্পনা এবং আশঙ্কাই সত্যি হলো। অবশেষে লোকসভাতেও বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (UBT)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দলের ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির বৈঠক এড়িয়ে গেলেন শিবসেনার ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জনই। এই গণ-অনুপস্থিতির পরই এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, তাঁরা সকলেই মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শাসক শিবসেনায় যোগ দিতে চলেছেন। দলীয় সূত্রে খবর, এই ৬ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ ইতিমধ্যেই শিন্দের শিবসেনার সাথে একীভূত হওয়ার আবেদন জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি যৌথ চিঠি জমা দিয়েছেন।
বুধবারই দলের পক্ষ থেকে কড়া ‘থ্রি-লাইন হুইপ’ জারি করে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সমস্ত লোকসভা সাংসদকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশ উড়িয়ে বৈঠকে যোগ দেননি ৬ জন সাংসদ। এদিন বৈঠকের আগে উদ্ধব শিবিরের সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “যারা হুইপ অমান্য করবেন, দলপ্রধান উদ্ধব ঠাকরের সাথে আলোচনা করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে শিন্দে শিবিরের পক্ষ থেকে এই হুইপের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, আদালতের একাধিক রায় অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল সাংগঠনিক শৃঙ্খলার জন্য অভ্যন্তরীণ সভার হুইপ জারি করতেই পারে, কিন্তু সংসদের ভেতরে ভোটাভুটির ক্ষেত্র ছাড়া সাধারণ সভার হুইপ অমান্য করলে কারও সাংসদ পদ খারিজ করা যায় না।
সূত্রের খবর, দলত্যাগের আইনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে স্পিকারের দপ্তর থেকে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সশরীরে হাজির হয়ে সই যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লোকসভার স্পিকারের কার্যালয়ে সেই সই যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। দলত্যাগ বিরোধী আইন বা সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, লোকসভায় পদ খারিজের হাত থেকে বাঁচতে হলে শিবসেনা (UBT)-র মোট ৯ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬ জন সাংসদকে একসাথে দল ছাড়তে হতো। এই ৬ জন সাংসদ একজোট হওয়ায় তাঁরা আইনি রক্ষাকবচ পেয়ে যাচ্ছেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
২০২২ সালে যেভাবে শিবসেনার ৩৯ জন বিধায়ককে সাথে নিয়ে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন মহাবিকাশ আঘাডি সরকার ফেলে দিয়েছিলেন একনাথ শিন্দে, ঠিক একই কায়দায় এবার লোকসভাতেও তিনি বাজিমাত করলেন। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতেই শিন্দে গোপনে দিল্লি এসেছিলেন এবং সমস্ত ঘুঁটি সাজিয়ে বুধবার মুম্বাই ফিরে যান। এর আগে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অরবিন্দ সাওয়ান্ত এবং সঞ্জয় রাউত স্পিকার ওম বিড়লার সাথে দেখা করে কোনো ‘অবৈধ দলবদল’ যাতে প্রশ্রয় না পায়, তার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শিবসেনা (UBT) নেতা অনিল দেশাই দাবি করেছিলেন, “আইন অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ থাকলেই সরাসরি অন্য দলে মিশে যাওয়া যায় না, মূল রাজনৈতিক দলটিরই একীভূত হওয়া প্রয়োজন।” তবে সমস্ত আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইকে পেছনে ফেলে লোকসভায় শিবসেনার রাশ এখন সম্পূর্ণভাবে একনাথ শিন্দের হাতে চলে যাওয়ার উপক্রম তৈরি হয়েছে।
