TOP NEWS

বিধানসভা থেকে নিয়ামগিরি পাহাড়—সবই ভুল! ওড়িশার স্কুল পাঠ্যবইয়ে মারাত্মক ‘ব্লান্ডার’, মুখ পুড়ল মাঝির

(Representation Image)

ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই ওড়িশার স্কুল পাঠ্যবইয়ে নজিরবিহীন এক কেলেঙ্কারি সামনে এল। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নতুন ছাপা পাঠ্যবইগুলিতে বানান ভুল থেকে শুরু করে বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের ভুল নাম এবং ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিকৃতির মতো ১,৬০০-রও বেশি মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবগঠিত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ওড়িয়া অস্মিতা’ ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণে নেমেছে বিরোধী দল বিজিডি এবং কংগ্রেস। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি একটি উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি ব্রহ্মানন্দ মহারানা জানিয়েছেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০’ মেনে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য রাজ্য শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ যে নতুন পাঠ্যবই তৈরি করেছে, তার মধ্যেই এই বিপুল ভুল ধরা পড়েছে। ওড়িশা বিধানসভার ছবির জায়গায় কর্নাটক বিধানসভার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ওড়িশার কালাহান্ডি ও রায়গড়া জেলায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘নিয়ামগিরি পাহাড়’-কে পাঠ্যবইয়ে ঝাড়খণ্ডের অংশ বলে দেখানো হয়েছে। গঞ্জাম জেলার বদলে ‘বহরমপুর’-কে একটি আস্ত জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি নিজেই পাঠ্যবইগুলি খতিয়ে দেখেন এবং এই ধরণের চরম গাফিলতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অবিলম্বে এই মুদ্রণ ত্রুটিগুলি সংশোধন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, এই নজিরবিহীন ভুলের জন্য কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করতে রাজ্যের উন্নয়ন কমিশনারের নেতৃত্বে একটি ৩ সদস্যের প্যানেল গঠন করেছেন। এই কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়ক। ‘এক্স’ পোস্টে তিনি মোদি-মাঝি সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন, “বিজেপি সরকার শিশুদের সময়মতো বই দিতে তো পারেইনি, আর যা দিয়েছে তাও ভুলে ভরা। ওড়িয়া বানানের এই ধরণের বিকৃতি কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। ওড়িয়া অস্মিতা রক্ষার দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিজেপি ওড়িয়া ভাষা, লিপি এবং রাজ্যের বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের সবচেয়ে বেশি অপমান করেছে। শৈশব থেকেই শিশুদের শিক্ষার সাথে এই ধরণের তামাশা কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না।” তৃণমূল স্তরে শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছেন বিজিডি প্রধান।

ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভক্ত চরণ দাস এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুবনেশ্বরে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এই ভুলে ভরা বইগুলি ছাপতে সরকারের প্রায় ৫০ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে, যা এখন আবর্জনার মতো ফেলে দিতে হবে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কংগ্রেস কর্মীরা স্কুল ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধে ‘শিক্ষার গেরুয়াকরণ’-এর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিজিডি বিধায়ক অরুণ সাহু এবং সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সুরেশ পাণিগ্রাহী। তাঁদের দাবি, যোগ্য বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে কেবল নিজেদের ভাবধারার লোকদের বই তৈরির দায়িত্বে রাখার ফলেই এই জাতীয় স্তরের লজ্জাজনক বিপর্যয় ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!