দিল্লির ছাত্র আন্দোলনকে সংহতি: ডোমকলে প্রতিবাদে রাজপথে নামল ছাত্র-যুবরা
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের মারধর ও অমানসিক নিগ্রহের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল রাজ্যেও। রাজধানীতে পুলিশের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে শুক্রবার রাজপথে নামল মুর্শিদাবাদের ডোমকলের ছাত্র-যুব ও সাধারণ মানুষ। এদিন ডোমকলের ছাত্র-যুবদের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ মিছিলটি ডোমকল বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে হসপিটাল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বহু শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের পাশাপাশি সংহতি জানাতে পা মেলান সাধারণ অভিভাবকরাও।
মিছিলে অংশ নেওয়া প্রতিবাদীরা স্পষ্ট জানান, দেশজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা এবং প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করলেও কেন্দ্র সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন। এক প্রতিবাদী আন্দোলনকারী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলেও কেন্দ্রের মোদি সরকারের কোনো হেলদোল নেই। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি এবার আরও জোরালো হবে। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই ও সমর্থন পূর্ণমাত্রায় বজায় থাকবে।”

প্রতিবাদ মিছিলে সোচ্চার হয়ে সুরাজ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার আন্দোলনকারী তরুণদের ন্যায্য দাবি শোনার বদলে তাঁদের শত্রু হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার জরুরি সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা এবং সরকারের থেকে জবাবদিহি দাবি করছি। কিন্তু কেন্দ্র সরকার সেই সৎ দাবিগুলো মেনে নেওয়ার পরিবর্তে চরম নিষ্ঠুরতা ও ভীরুতার পরিচয় দিচ্ছে। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।”
মিছিল থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের বর্বর নির্যাতন এই সরকারের আমলে নতুন নয়। প্রতিবাদী তরুণ সজিবুল ইসলাম জানান, “প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার ক্রমাবনতির বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিটি কোণায় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে সোচ্চার হচ্ছে। আমাদের তরুণ সমাজ নিজেদের অধিকার রক্ষায় সাহসের পরিচয় দিচ্ছে, অথচ সরকার চরম দমনপীড়ন চালিয়ে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে। পূর্বেও যেভাবে সশস্ত্র পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তা দেশবাসী আজও ভোলেনি।” ডোমকালের এই প্রতিবাদী মিছিল থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, দিল্লিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি না মেটা পর্যন্ত এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।
