শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে ইস্তফা দিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: শারীরিক গুরুতর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব তাঁর এই ইস্তফার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। ৭৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দেশের চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও তিনি সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের পদে বহাল ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সাহাবুদ্দিন জানান, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যপরীক্ষায় তাঁর শরীরে একটি বিরল ও জটিল শারীরিক সমস্যা ধরা পড়েছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক চিকিৎসাগত পরীক্ষায় আমার ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক একটি জটিল শারীরিক সমস্যা ধরা পড়েছে। এই ব্যাধির কারণে আমি মাঝেমধ্যেই ক্ষণিকের জন্য চেতনা হারিয়ে ফেলি।” শারীরিক ও মানসিক এই প্রতিকূলতার দরুন রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন একসময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয় এবং বহু নেতাকর্মী গ্রেফতার বা আত্মগোপনে চলে যান। আগামী ৫ মাসের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার খবরের মাঝেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগ শীর্ষ প্রশাসনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর আর কোনো মিত্রকে অবশিষ্ট রাখল না। সংবিধান অনুযায়ী এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ১৭ কোটি ৩ লাখ মানুষের এই দেশে রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার হাতেই ন্যস্ত থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!