“অপরাধী শিক্ষামন্ত্রী”: আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ওপর ছররা গুলির অভিযোগে মোদি সরকারকে বিঁধলেন রাহুল
(Photo Credit: X/@RahulGandhi)
ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের ওপর চরম বলপ্রয়োগ ও ছররা গুলি (প্যালেট গান) ব্যবহারের অভিযোগে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে “অপরাধী শিক্ষামন্ত্রী” আখ্যা দিয়ে তাঁর অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থাৎ তরুণদের ওপর এমন বর্বর আক্রমণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ। শুক্রবার ১০ জনপথের বাইরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গত ২০ জুলাই দিল্লির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে ছররা গুলিতে আহত শিক্ষার্থী সাহিলকে পাশে নিয়ে রাহুল গান্ধি এই কড়া বক্তব্য তুলে ধরেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধি আহত সাহিলের টি-শার্ট তুলে তাঁর পিঠ ও পিঠের আশপাশের অংশজুড়ে থাকা ছররা গুলির ক্ষতচিহ্ন দেখান। রাহুল জানান, পুলিশের ছোড়া ছররা গুলির আঘাতে সাহিলের ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধি বলেন, “আপনারা বলছেন যে আন্দোলনকারীদের ওপর ছররা গুলি চালানো হয়েছে। আমি বোঝাতে চাই কখন এই ছররা গুলি চালানো হয়েছিল। আমার এই ভাই যখন হাতে তেরঙ্গা নিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, তখন তাঁকে লক্ষ্য করে ছররা গুলি চালানো হয়। এটিই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। হাজার হাজার তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই একই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। তাদের ওপর ছররা গুলি চালানো হয়েছে এবং লাঠিচার্জ করা হয়েছে। তারা কী করছিল? তারা তো কেবল নিজেদের অধিকারের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিল।”
আহত সাহিলের পরিচয় তুলে ধরে তিনি জানান, সাহিল পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় বসেছিলেন, কিন্তু সেই পরীক্ষার প্রক্রিয়াও প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিতে ভেস্তে যায়। তাঁর বাবা-মা অনেক কষ্ট করে তাঁকে পড়াশোনা করিয়েছেন, আর আজ তাঁকে চোখ হারানোর ঝুঁকিতে হাসপাতালে কাটাতে হচ্ছে। রাহুল গান্ধি স্পষ্ট জানান, দেশের শিক্ষার্থী সমাজ কেন্দ্র সরকারের কাছে ৩টি স্পষ্ট দাবি রাখছে। শিক্ষাব্যবস্থার বিপর্যয় ও ধারাবাহিক প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও ছররা গুলি চালানোর নির্দেশদাতা ও প্রয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তরুণদের ভবিষ্যতের ওপর এই হামলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার পতনের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে রাহুল বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীই হলেন সেই কারণ, যার জন্য আমার এই ভাইকে আজ গুলি খেতে হয়েছে এবং হাজার হাজার তরুণ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে।”
দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কায় আহত সাহিল
আহত শিক্ষার্থী সাহিল জানান, ২০ জুলাইয়ের মিছিলে তাঁর ডান চোখে ছররা গুলি লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও সাফদারজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরদিন, ২১ জুলাই তাঁকে এমইস-এর ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়। ইতিমধ্যে একটি অস্ত্রোপচার করে তাঁর চোখ থেকে ছররা বের করা হলেও তিনি সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়ে এখনও চিকিৎসকরা অনিশ্চিত।
শিক্ষার্থীদের ওপর ছররা গুলি ব্যবহারের ছবি ও প্রমাণ সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, সেদিন মোতায়েন থাকা দ্রত প্রতিক্রিয়া বাহিনী (RAF)-র নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিআরপিএফ (CRPF) এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি।
ছোট ছোট ধাতব বা রবারের গুলি ভর্তি কার্তুজ দিয়ে তৈরি এই ‘প্যালেট গান’ সাধারণত বড় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার করা হয়। ২০১০ এবং ২০১৬ সালে কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনে এই অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারে শত শত সাধারণ মানুষের চোখ নষ্ট হয়েছিল, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। এবার দেশের রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর সেই ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগে কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে মোদি সরকার।
