ইরান যুদ্ধ গড়াচ্ছে ৫ মাসে: স্থায়ী শান্তি নিয়ে হতাশ ট্রাম্প, চড়ছে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু তিক্ততা!

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান যুদ্ধ গড়িয়েছে পঞ্চম মাসে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় চরম হতাশা ও সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (Wall Street Journal)-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘায়িত এই সামরিক সঙ্ঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যকেই উত্তপ্ত রাখেনি, বরং হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমশ বাড়ছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামছে এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জয়ের সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও তেলের দাম কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন, তবে উপদেষ্টা দলের মতো রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন নন বলেই জানা গেছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, “ট্রাম্প বিশ্বাস করেন তেহরান কেবল সামরিক শক্তি এবং কঠোর আঘাতের ভাষাই বোঝে। বর্তমানে তিনি একপ্রকার ‘প্রতিশোধমূলক মানসিকতায়’ রয়েছেন, যা তাঁর সামনে বিমান ও সামরিক হামলা চালিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা রাখছে না।” এদিকে জনগণের অসন্তোষ ও আর্থিক খরচের তোয়াক্কা না করে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা ও আধুনিক অস্ত্র পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প।

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কেও। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কে চরম তিক্ততা ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলা বা সরাসরি সাক্ষাৎ করার বিষয়ে প্রবল অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের ব্যক্তিগত প্রভাব পড়েছে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের ওপর। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে সতর্কতা জারি করে জানানো হয়েছে, ইরানি গুপ্তঘাতক দল তাঁদের ওপর হামলার চক্রান্ত করতে পারে। নিরাপত্তার খাতিরে উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত রাইড শেয়ারিং বা সাধারণ গাড়ি পরিষেবা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তুর্কিয়েতে আয়োজিত সাম্প্রতিক ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় ট্রাম্পকে এক বিস্ফোরক ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অবগত করা হয়, যেখানে তাঁর ওপর ইরানি হত্যাচেষ্টার চক্রান্তের কথা বলা হয়েছিল।

যদিও মার্কিন আধিকারিকরা এই গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তবুও সুরক্ষার খাতিরে কাতার থেকে উপহার পাওয়া আধুনিক জেটের পরিবর্তে ট্রাম্পকে পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ফেরানো হয়। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (New York Times) যখন বিমান পরিবর্তনের এই নিরাপত্তার খবরটি প্রকাশ্যে আনে, তখন চরম ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। এই গোপনীয় তথ্য ফাঁসকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যতই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, মার্কিন প্রশাসনিক করিডোরে যুদ্ধ ও তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উত্তেজনা ততই বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!