যন্তর মন্তর: ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশি বর্বরতা কার স্বার্থে?

(Photo Credit: X)

——————————————————————————-
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো নাগরিকদের ক্ষোভ প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার। কিন্তু রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন, বেপরোয়া লাঠিচার্জ এবং অভিযোগ অনুযায়ী ছররা গুলি (প্যালেট গান) ব্যবহারের যে ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, তা স্বাধীন ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনার মুখে এক মারাত্মক আঘাত।

নিট প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নামছে, তখন তাদের দাবি শোনার পরিবর্তে চরম বলপ্রয়োগ করে কণ্ঠরোধ করার নীতি গ্রহণ করেছে মোদি সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একের পর এক আশঙ্কাজনক দৃশ্য এবং ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, রাষ্ট্রীয় শক্তি আজ নাগরিক অধিকার রক্ষার চেয়ে আন্দোলন স্তব্ধ করতেই বেশি তৎপর।

নিরাপত্তার অজুহাতে শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর কাঁদানে গ্যাস এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনকভাবে ছররা গুলির মতো মারাত্মক প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অতীতেও কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে ছররা গুলির নির্বিচার ব্যবহারে বহু নিরীহ মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন। সেই চরম বিতর্কিত অস্ত্র যখন দেশের রাজধানীতে ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনী কতটা বেপরোয়া ও সংবেদনহীন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীরা দেশের শত্রু নয়; তারা দেশের ভবিষ্যৎ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চাওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজপথে শিক্ষার্থীদের ওপর খড়্গহস্ত হওয়া হচ্ছে, তা এক ভয়াবহ ‘পুলিশি রাষ্ট্র’-এর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। শক্তি প্রদর্শন করে হয়তো সাময়িকভাবে রাজপথ খালি করা যায়, কিন্তু যুবসমাজের মনের ভেতরে ক্ষোভের যে আগুন জ্বলে ওঠে, তা বলপ্রয়োগ করে নেভানো সম্ভব নয়।

সরকার ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তাদের অবিলম্বে এই ঘটনার দায় স্বীকার করতে হবে। পুলিশি অত্যাচারের বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং ছররা গুলির মতো বিপজ্জনক দমনপদ্ধতি অবিলম্বে বন্ধ করার কঠোর বার্তা দেওয়া প্রয়োজন। দমনপীড়ন চালিয়ে তরুণদের কণ্ঠরোধ করার এই বিপজ্জনক খেলা বন্ধ না হলে, তা দেশের সামাজিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর জন্য এক অমোঘ পরিণতি ডেকে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!