নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: অভাবের সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে দেড় মাস আগে কাজের সন্ধানে সুদূর কেরালায় পাড়ি দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার নবীন গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল বিশ্বাস (৪০)। কিন্তু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন আর পূরণ হল না। অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আগেই মৃত্যু হল পরিযায়ী ওই শ্রমিকের। শোকস্তব্ধ নবীন গ্রাম সহ গোটা সাগরপাড়া এলাকা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন শরিফুল। সংসারের খরচ, ঋণের কিস্তি এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে কাজের সন্ধানে কেরালায় যান তিনি। সেখানে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। পরিবারের দাবি, কেরালায় যাওয়ার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শরিফুল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলেন। গত শনিবার তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই অকাল মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী, ১২ বছরের সন্তান সহ পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের ভিড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। পরিবারের এক আত্মীয় বলেন, “কেরলে যাওয়ার পর থেকেই শরিফুল অসুস্থ ছিল। বাড়ি ফিরতে চাইছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।”
পরিযায়ী শ্রমিকের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন শরিফুলের স্ত্রী ও সন্তান। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক। এ প্রসঙ্গে জলঙ্গি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কবিরুল ইসলাম বলেন, “মৃত্যু সবসময়ই বেদনাদায়ক। যিনি চলে গেছেন তাঁকে তো আর ফেরানো যাবে না। আমরা অসহায় পরিবারটির পাশে থাকার চেষ্টা করব। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
