ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে সোমবার একগুচ্ছ ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসংগতি থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ হয় এবং সাধারণ মানুষকে কোনো রকম হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
শীর্ষ আদালতের মূল নির্দেশিকা
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে নিম্নলিখিত নির্দেশগুলো দিয়েছেন:
তালিকা প্রকাশ: যেসব ব্যক্তির ফর্মে অসংগতি পাওয়া গেছে এবং যাঁদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁদের তালিকা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসে প্রকাশ করতে হবে।
বুথ লেভেল এজেন্টের (BLA) ভূমিকা: যাঁদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁরা সশরীরে উপস্থিত না হয়ে তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নথি জমা দিতে পারবেন। এই প্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টরাও (BLA) থাকতে পারবেন। তবে প্রতিনিধির কাছে আবেদনকারীর সই বা টিপছাপ সম্বলিত অনুমতিপত্র থাকতে হবে।
নিকটবর্তী স্থানে শুনানি: সাধারণ মানুষকে যাতে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে গিয়ে নথি জমা দিতে না হয়, তার জন্য পঞ্চায়েত ভবন বা ব্লক অফিসেই প্রয়োজনীয় ক্যাম্প করতে হবে।
শুনানির সুযোগ: যদি দাখিল করা নথিতে আধিকারিকরা সন্তুষ্ট না হন, তবে আবেদনকারীকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।
সেখানেও অনুমোদিত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারবেন।
প্রাপ্তি স্বীকার ও নিরাপত্তা: নথি গ্রহণ বা শুনানির পর আধিকারিকদের বাধ্যতামূলকভাবে তার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Receipt) দিতে হবে। এছাড়া রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ এবং ডিজি-কে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে যুক্তিতর্ক
তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করেন যে, প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘Ganguly’ বা ‘Datta’-র মতো পদবির বানানে সামান্য পার্থক্যের জন্যও নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মা-বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান কম থাকার অজুহাতেও নোটিশ যাচ্ছে, যা গ্রামীণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী জানান, বানানের ভুলের জন্য নোটিশ না পাঠাতে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মা-বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হলে সেটিকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, “মা ও ছেলের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছর হওয়া কেন অসংগতি বলে গণ্য হবে? আমাদের দেশে কি বাল্যবিবাহ হয় না?” তিনি আরও বলেন, “১ কোটিরও বেশি মানুষকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবেন না।” প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে এবং তা যেন সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
(সূত্র: লাইভ ল || অনুবাদ: আব্দুল বাকি)

One thought on ““মানুষকে হয়রানি করবেন না”, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে একগুচ্ছ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের”