TOP NEWS

প্রেমিকের প্রতি অভিমান! জলঙ্গিতে আত্মঘাতী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, গ্রেফতার প্রেমিক কিশোর

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: জলঙ্গিতে এক নাবালিকা ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল। প্রেমের সম্পর্কে মনোমালিন্য কারণেই আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির একটি গ্রামে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনায় এক নাবালককে গ্রেফতার করেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নাবালিকা জলঙ্গির একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। প্রায় এক বছর ধরে একই এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোর দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করত। যদিও কিশোরের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারে মতভেদও ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

সূত্রের খবর, গতকাল শুক্রবার, ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে মেয়েটি তার প্রেমিকের কাছে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার বায়না ধরে। সূত্রের খবর, প্রেমিক তার এই আবদারে রাজি না হওয়ায় দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য হয় বলে খবর। শুক্রবার রাতে প্রেমিকের সাথে দেখা করে বাড়ি ফেরার পরেই মেয়েটি অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে বলে পরিবারের দাবি। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মেয়েটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের দাবি, বাড়িতে ফিরে মেয়েটি খুবই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। রাতেই নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে নাবালিকা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নামিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের মা বলেন, “একটা ছেলে ওকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে কী হয়েছে জানি না। বাড়ি এসে গলায় দড়ি দেয় আমার মেয়ে। ছেলেটা অনেক দিন ধরেই ওকে উত্ত্যক্ত করত।” মায়ের অভিযোগ, ওই কিশোরের আচরণ ও মানসিক চাপে মেয়েটি চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে জলঙ্গি থানার পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। একই সঙ্গে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত নাবালক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের প্রকৃতি, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, মানসিক চাপ বা প্ররোচনার বিষয় আছে কি না—সবই তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।” পাশাপাশি কিশোরের মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের তথ্যও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

এদিকে তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে, এটি নিছক অভিমানজনিত আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও চাপ বা প্ররোচনার ঘটনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক বিবেচনা করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!