ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম.এম. নরভানের স্মৃতিচারণমূলক বই ‘ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি’ ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের দড়ি টানাটানির মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার তিনি সরাসরি প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন তুললেন— “কে সত্যি বলছেন? প্রকাশনা সংস্থা না কি খোদ প্রাক্তন সেনাপ্রধান?”
পেঙ্গুইন বনাম রাহুল গান্ধী: কার দাবি সঠিক?
এদিন সকালেই পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে সাফ জানায় যে, বইটির স্বত্ব একমাত্র তাদের কাছে এবং এটি এখনও কোনোভাবেই প্রকাশিত বা বাজারজাত করা হয়নি। বাজারে বা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কপিগুলোকে তারা ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে। এর জবাবে রাহুল গান্ধী জেনারেল নরভানের ২০২৩ সালের একটি পুরনো টুইট এবং অ্যামাজন (Amazon)-এর তালিকা সামনে আনেন। তিনি বলেন, “নরভানেজি নিজেই টুইট করে বলেছিলেন, ‘আমার বই প্রকাশিত হয়েছে, এই লিঙ্কে গিয়ে কিনুন।’ পেঙ্গুইন বলছে বই বেরোয়নি, কিন্তু বই তো অ্যামাজনে পাওয়া যাচ্ছে। হয় নরভানেজি মিথ্যে বলছেন, নয়তো পেঙ্গুইন। আমি বিশ্বাস করি একজন প্রাক্তন সেনাপ্রধান মিথ্যে বলতে পারেন না।”
কেন এই বই ঘিরে এত বিতর্ক?
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, এই বইটিতে ২০২০ সালের লাদাখে ভারত-চীন সংঘর্ষ এবং অগ্নিপথ প্রকল্প নিয়ে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা মোদী সরকারের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। সংসদে তিনি বইটির সারাংশ পড়তে চাইলে স্পিকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তাঁকে বাধা দেন। সরকারের দাবি, অপ্রকাশিত এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংবেদনশীল কোনো নথির অংশ সংসদীয় রেকর্ডে রাখা যায় না।
সংসদের অচলাবস্থা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদের বাজেট অধিবেশনে নজিরবিহীন সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। হট্টগোলের কারণে আটজন বিরোধী সাংসদকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাহুল গান্ধী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর কলঙ্ক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আগামী মাসে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
