ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: সরকারি তথ্যেই বেআব্রু হল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার হাল। দেশের বহু সরকারি স্কুলে কোনও শিক্ষার্থী নেই। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের অভাবে কার্যত বন্ধ হওয়ার অবস্থা স্কুলগুলি। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশজুড়ে ১০.১৩ লক্ষ সরকারি স্কুলের মধ্যে ৫ হাজারেরও বেশি স্কুলে কোনও পড়ুয়াই নেই। অথার্ৎ পড়ুয়া শূণ্য বহু হাজার হাজার স্কুল। পড়ুয়ারা না থাকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে তেলেঙ্গানা ও পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্য দুটিতে ৭০ শতাংশেরও বেশি সরকারি স্কুলে পড়ুয়া শূণ্য।
পড়ুয়া শূন্য স্কুলের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রক। সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা গিয়েছে, গত দুই বছরে এই জাতীয় সরকারি স্কুলের সংখ্যা ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৫২,৩০৯ থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫,০৫৪। অথার্ৎ এক বছরে ১২ হাজারেরও বেশি স্কুলে পড়ুয়া শূণ্য হয়েছে। লোকসভায় সাংসদ কার্তি পি চিদাম্বরম এবং অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিংয়ের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই স্কুলগুলি এখন দেশের মোট সরকারি স্কুলের ৬.৪২ শতাংশ। তেলেঙ্গানা রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৮১টি স্কুল কোনও পড়ুয়া ভর্তি হয়নি। ফলে ওই স্কুলগুলিতে পড়ুয়া শূণ্য। পশ্চিমবঙ্গেও ১ হাজার ৫ শো ৭১টি স্কুলে পড়ুয়া শূণ্য।
ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাসের জেলা স্তরের তথ্যে দেখা গিয়েছে, তেলেঙ্গানার নালগোন্ডা জেলায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পড়ুয়া শূণ্য স্কুল রয়েছে। এই জেলাটিতে পড়ুয়ার অভাবে ৩১৫টি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরেই রয়েছে মাহবুবাবাদ ও ওয়ারাঙ্গলে। এই জেলা দুটিতে বন্ধ স্কুলের সংখ্যা ১৬৭ এবং ১৩৫। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলার রাজধানী কলকাতায় ২১১টি সরকারী স্কুল কোনও পড়ুয়া নেই। পূর্ব মেদিনীপুরে পড়ুয়া শূণ্য স্কুলের সংখ্যা ১৭৭টি। এরপরই রয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর। এই জেলাটিতে ১৪৭টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই।
কেন্দ্রের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ১.৪৪ লক্ষ শিক্ষক বিভিন্ন সরকারি স্কুলে কর্মরত আছেন। বহু স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ জনেরও কম। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই এই কম শিক্ষার্থী থাকা স্কুলে ৬,৭০৩টি সরকারি স্কুলে ২৭,৩৪৬ জন শিক্ষক নিযুক্ত আছেন। অর্থাৎ প্রতি স্কুলে প্রায় চারজন করে শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু পড়ুয়া সংখ্যা তলানিতে। বিহারের ক্ষেত্রেও ছবিটা একই। নীতিশের রাজ্যটিতে ৭৩০টি স্কুলে ৩ হাজার ৬ শো শিক্ষক রয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেকটি স্কুলে গড়ে প্রায় পাঁচজন করে শিক্ষক। কিন্তু স্কুল গুলিতে পড়ুয়া নেই। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশব্যাপী মোট সরকারি স্কুলের সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে। ২০১৯-২০ সালে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল ১০.৩২ লক্ষ। সেখানে ২০২৪-২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১০.১৩ লক্ষে।
