ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে ভোট যত এগিয়ে আসছে, দিল্লির নির্বাচন সদনের সঙ্গে নবান্নের লড়াই ততই তীব্র হচ্ছে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে এবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন বা ‘ইমপিচমেন্ট’ প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস।
গতকালের নাটকীয় ঘটনার রেশ ধরেই আজ এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, গতকালই দিল্লির নির্বাচন কমিশন দপ্তরে গিয়ে তিন শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন বেছে বেছে তৃণমূল বিধায়কদের এলাকা থেকেই ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, “বিজেপি বিধায়কদের কেন্দ্রে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যেখানে তৃণমূলের বিধায়ক রয়েছেন, সেখানে ৪০ হাজার থেকে ১ লক্ষ পর্যন্ত নাম একতরফাভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে।” খোদ নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমার কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই খসড়া তালিকা থেকে ৪০ হাজার নাম কাটা হয়েছে। ওদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ভবানীপুর থেকে ১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া।”
তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ স্পষ্ট জানান যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাজ করার পদ্ধতি সম্পূর্ণ ‘ভুল’ এবং তা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, “যেভাবে এসআইআর (SIR) চালানো হচ্ছে, তা অনৈতিক। আমরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ইমপিচ করার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছি। কারণ এই প্রক্রিয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করছে।”
তৃণমূল সূত্রে খবর, সংসদের উচ্চকক্ষে বা নিম্নকক্ষে এই ধরণের প্রস্তাব আনতে গেলে অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। তাই শীঘ্রই ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের শরিকদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করবেন তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীনতার পর ভারতের ইতিহাসে কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ঘটনা বিরল। তবে ভোটার তালিকায় ব্যাপক গরমিলের অভিযোগে তৃণমূল যে এবার শেষ পর্যন্ত লড়তে চাইছে, তা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার।
