ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: ভারতের ইউনিয়ন বাজেট, যা সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি (Annual Financial Statement) নামে পরিচিত। বাজেটের মধ্যদিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়ের সামগ্রিক রূপরেখা তৈরি করে। এই বাজেটের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় অগ্রাধিকার, করনীতি এবং আর্থিক ঘাটতি-সহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারিত করে।
কবে শুরু হয় বাজেট প্রস্তুতি
সাধারণত প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করা হলেও, এর প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগেই—সাধারণত আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে, অর্থাৎ প্রায় ছয় মাস আগে। দীর্ঘ এই সময়সীমা সরকারকে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, পরামর্শ এবং বিস্তারিত পরিকল্পনার সুযোগ দেয়, যেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকেন।
বাজেট প্রক্রিয়ার সূচনা
বাজেট প্রণয়নের প্রথম ধাপে অর্থ মন্ত্রকের অধীন অর্থনৈতিক বিষয়ক দপ্তর (Department of Economic Affairs) সব মন্ত্রণালয়, রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলির কাছে বাজেট সার্কুলার পাঠায়। এতে আসন্ন অর্থবছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়। এই তথ্যগুলিই পরবর্তীতে বাজেট প্রণয়নের ভিত্তি গঠন করে।
পর্যালোচনা ও পরামর্শ প্রক্রিয়া
প্রস্তাব জমা পড়ার পর আধিকারিকরা সেগুলি খতিয়ে দেখেন ও বিশ্লেষণ করেন। অর্থমন্ত্রী, শীর্ষ সরকারি আধিকারিক এবং অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে নীতি আয়োগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে ব্যয় অগ্রাধিকার ও রাজস্ব অনুমানের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা হয়।
চূড়ান্তকরণ ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন
দীর্ঘ পর্যালোচনা ও আলোচনার পর সমস্ত প্রস্তাব একত্রিত করে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়। এরপর ইউনিয়ন ক্যাবিনেট বা প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে সংসদে পেশের জন্য বাজেট নথি প্রস্তুত করা হয়।
হালুয়া অনুষ্ঠান ও গোপনীয়তা
বাজেট প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য হলো হালুয়া অনুষ্ঠান। বাজেট পেশের প্রায় ৯–১০ দিন আগে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা বাজেট মুদ্রণ ও চূড়ান্ত প্রস্তুতির সূচনা নির্দেশ করে। এই উপলক্ষে অর্থমন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকরা একসঙ্গে হালুয়া ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানের পর থেকে বাজেট প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের জন্য কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। প্রথা অনুযায়ী, তাঁরা বাজেট পেশ না হওয়া পর্যন্ত উত্তর ব্লকের মধ্যেই অবস্থান করেন।
ব্লু শিট ও গুরুত্বপূর্ণ নথি
বাজেট প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো ব্লু শিট। এতে বাজেটের মূল আর্থিক পরিসংখ্যান ও অনুমান সংরক্ষিত থাকে, যা পুরো বাজেট প্রস্তাবের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই নথি অত্যন্ত গোপনীয় এবং কেবল শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সংসদে বাজেট উপস্থাপন
অর্থমন্ত্রী সাধারণত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় সংসদে বাজেট পেশ করেন। ২০১৭ সাল থেকে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ১ এপ্রিল নতুন অর্থবছর শুরুর আগেই বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। এর আগে বাজেট ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পেশ করার রীতি ছিল।
