“চুরি বরদাস্ত নয়, দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স”: নবনির্বাচিত প্রধানদের সতর্ক করল ডোমকল কংগ্রেস
(Image: Daily Domkal)
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: পঞ্চায়েত স্তরে কোনো রকমের দুর্নীতি বা অপশাসন বরদাস্ত করা হবে না— ডোমকলে দলের নবনির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধান ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিল কংগ্রেস। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তি বা পদ সাময়িক হলেও দল চিরস্থায়ী; তাই ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবার ডোমকল ব্লক ও টাউন কংগ্রেসের উদ্যোগে অঞ্চল ও ওয়ার্ড সভাপতিদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ স্মরণ করে একটি ‘সংহতি দিবস’-এর পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমানে ব্লক কংগ্রেসের নিজস্ব কোষাগার শূন্য থাকায় দলীয় কর্মসূচি পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেই ঘাটতি মেটাতে অঞ্চল ও ওয়ার্ড স্তরে দলীয় চাঁদা ধার্য করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে চাঁদা আদায়ের নামে যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি ও কংগ্রেস নেতা রবিউল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যরা সরকারিভাবে যে ভাতা পান, সেখান থেকেই দলের চাঁদা মেটাতে হবে। উন্নয়ন তহবিলের টাকায় নজর দিলে দল হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। রবিউল ইসলামের কথায়, “দলের কোষাগারে অর্থ দেওয়ার দোহাই দিয়ে কেউ পদের অপব্যবহার করে চুরি করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। পঞ্চায়েতের উন্নয়নের টাকা এদিক-ওদিক করার মানসিকতা থাকলে এখনই সতর্ক হন।”
এদিনের সভায় ডোমকল বাম বিধায়ককে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ব্লক কংগ্রেসের সম্পাদক মাফিকুল ইসলাম। মুস্তাফিজুর রহমানকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আমাদের বিধায়ক বিজেপির কাছে ‘গুড বিধায়ক’ সেজে থাকতে চাইছেন। তৃণমূলের আমলে ডোমকলে হওয়া একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়ম তিনি দায়িত্ব নিয়ে ঢাকার চেষ্টা করছেন।” তাঁর অভিযোগ, বিধায়ক পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে এলাকায় কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। প্রশাসন এভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ চালিয়ে গেলে আগামী দিনে ‘থানা ঘেরাও’ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
সভায় কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মসিউর রহমান জানান, ডোমকলে কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি দিন দিন বাড়ছে। বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত ইতিমধ্যেই দল দখল করেছে এবং খুব শীঘ্রই ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতিও কংগ্রেসের দখলে আসবে। তবে একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সময়ের অভাব ও শৃঙ্খলাহীনতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়ে বৈঠকে না আসা বা বৈঠক ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন ব্লক সভাপতি। তিনি কর্মীদের মনে করিয়ে দেন, “সাফল্য পাওয়ার একটি মাপকাঠি হল দলীয় শৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন। ১ টায় মিটিং ডাকা হয়েছে, আপনারা নিজেদের খেয়াল খুশি মত মিটিংয়ে আসছেন। এটা চলতে পারে না। মিটিং চলাকালীন কেউ কেউ ইচ্ছে মত মিটিং ছেড়ে বাইরে চলে যাচ্ছেন, এগুলোকে শৃঙ্খলা বলে না। আপনাদের অনুরোধ করব, আগামীতে সময় ও দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলবেন।” মসিউর রহমান জানান, রাজনীতিতে সাধারণ মানুষই শেষ কথা বলেন। তাই ডোমকলের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এদিনের সভায় আগামী ১৫ আগস্টের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রক্তদান শিবির সফল করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
