নিজস্ব সংবাদদাতা, রানিনগর: বদলি নিয়েছেন একের পর এক শিক্ষক-শিক্ষিকা। তার জেরে স্কুলগুলিতে শিক্ষক সংখ্যা কমতে কমতে গিয়ে ঠেকেছে শূন্যের ঘরে। ফলে বন্ধ হয়েছে একের পর এক জুনিয়র হাই স্কুল। রানিনগর ২ ব্লকে জুনিয়র হাই স্কুলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪। অথচ কমেনি পড়ুয়ার সংখ্যা। শুধুমাত্র শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ব্লকের বহু জুনিয়র হাই স্কুল।
রানিনগরের খাসতালুক জিন্নাতপাড়া জুনিয়র হাই স্কুলটি সর্বশিক্ষা মিশনের আওতায় ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে স্থাপিত হয়। আশেপাশের এলাকার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পড়াশোনা হতো। প্রথমের দিকে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ঠিকঠাক থাকলেও সমস্যার সূত্রপাত কোভিডের পরবর্তী সময়ে। ২০২২ সালে স্কুল থেকে ট্রান্সফার নিয়ে অন্যত্র চলে যান স্কুলের ২ শিক্ষক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। পড়ে থাকেন এক শিক্ষিকা। ফলে, গত দু’বছর ধরে ওই স্কুলে ভর্তি হয়নি একজনও পড়ুয়া। বাড়ি বাড়ি ঘুরে অবিভাবকদের বুঝিয়েও সন্তানদের স্কুলে ভর্তির রাজি করাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে কার্যত বন্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে ওই জুনিয়র হাই স্কুল।
শিক্ষিকা সুদেষ্ণা চক্রবর্তী বলেন, স্কুলে শিক্ষিকা বলতে শুধু একা আমিই। গ্রামের মানুষদের একাধিকবার বুঝেয়েছি সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকা না থাকায় তাঁরা রাজি হচ্ছেন না। তাছাড়া প্রাইমারি স্কুলগুলিতে বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হওয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে আর অভিভাবকরা জুনিয়র হাই স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করাচ্ছেন না।
এদিকে আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে অন্তত ১০ থেকে ১২টির বেশি স্কুল। বাকি যেগুলি চলছে সেগুলোর হালও খুব ভালো নয়। এই যেমন শেখপাড়া জুনিয়র হাই স্কুল। সূত্রের খবর, ওই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ৪৭। এভাবে একের পর এক স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, বাড়ির কাছে জুনিয়র স্কুল থাকার পরেও ছোট ছোট বাচ্চাদের কয়েক কিমি দূরের হাই স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। অথচ বছর কয়েক আগেও স্কুলগুলির এই হাল ছিল না। স্কুল থেকে বলা হচ্ছে, ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাতে। কিন্তু স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকা নেই, ছেলেমেয়ে ভর্তি হলে তাঁদের পড়াশোনা কীভাবে চলবে? তাঁদের আরও দাবি, অন্তত অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করে হলেও স্কুলগুলিকে বাঁচানো প্রয়োজন।
রানিনগর ২ ব্লকে বর্তমানে স্কুল সাব ইনস্পেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন তপতী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে পুরো রানিনগর ২ ব্লকে চারটি জুনিয়র হাই স্কুল অপারেশনাল রয়েছে। মূলত শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবেই এই সমস্যা। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
