ডেইলি ডোমকল, লখনউ: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের খসড়া সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকায় দেখা গিয়েছে, রাজ্যের নির্বাচনী তালিকা থেকে মোট ২.৮৯ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬ লক্ষ ভোটার মৃত বলে চিহ্নিত হয়েছেন। দেশের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় গণনার সময়সীমা তিন দফা বাড়ানোর পর এই খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হলো।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ২.৮৯ কোটি ভোটারের মধ্যে ২.১৭ কোটি স্থানান্তরিত, ৪৬.২৩ লক্ষ মৃত, এবং ২৫.৪৭ লক্ষ ভোটার একাধিক স্থানে নথিভুক্ত ছিলেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৬ মার্চ প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এসআইআর ঘোষণা হওয়ার সময় উত্তরপ্রদেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫.৪৪ কোটি। প্রতিটি ভোটারের জন্য পৃথক গণনা ফর্ম ছাপানো হয় এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই ও স্বাক্ষরযুক্ত ফর্ম সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মোট ভোটারের মধ্যে ১২,৫৫,৫৬,০২৫টি গণনা ফর্ম ফেরত আসে, যা মোট ভোটারের ৮১.০৩ শতাংশ। তবে প্রায় ১৮.৭ শতাংশ ভোটারের ফর্ম জমা না পড়ায়, খসড়া তালিকা থেকে ২.৮৯ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের রাজধানী লখনউতেই সর্বাধিক ভোটার হ্রাস পেয়েছে। এসআইআর ঘোষণার সময় লখনউয়ে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩৯.৯ লক্ষ, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ২৭.৯ লক্ষে—অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস। একইভাবে, ললিতপুরে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯.৫ লক্ষ, যা কমে এখন ৮.৬ লক্ষ হয়েছে—প্রায় ১০ শতাংশ কম।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন গণনা প্রক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় নির্ধারণ করে ১১ ডিসেম্বর শেষ তারিখ ধার্য করেছিল। তবে প্রায় ২.৯৭ কোটি নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা এবং চলমান ম্যাপিং কাজের কারণে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন অতিরিক্ত সময় চায়। এর পর কমিশন ১৫ দিনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মঞ্জুরি দেয়। এরপরও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে বিলম্ব ঘটে। কিছু বিএলও-র উপর প্রতি এলাকায় ১,২০০-এর বেশি ভোটারের দায়িত্ব পড়ে যাওয়ায় কাজের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পাশাপাশি ২৩ ডিসেম্বর ১,৫৩০টি নতুন ভোটকেন্দ্র অনুমোদন হওয়ায় সার্ভার-সংক্রান্ত তথ্য স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দেয়। আরও এক দফা সময় বাড়ানোর পর মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু ভোটার গোষ্ঠী অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
