নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু। এবার ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনের প্রশাসনিক নোটিশ বা ‘এসআইআর’ (SIR)-এর আতঙ্কে প্রাণ হারালেন ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। মৃতের নাম আকসার শেখ। মঙ্গলবার সকালে জলঙ্গি থানার নওদাপাড়া গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অসংলগ্ন নিয়ম ও প্রশাসনিক চাপেই অকালে প্রাণ হারাতে হলো বাড়ির কর্তাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আকসার শেখের ভোটার তালিকায় নামের বানানে কিছু ভুল ছিল। গত বেশ কিছুদিন ধরে সেই ভুল সংশোধনের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ছোটাছুটি করছিলেন তিনি। বিএলও-র কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে ‘এসআইআর’ হেয়ারিং-এর নোটিশ পৌঁছায়। পরিবারের দাবি, শুনানির জন্য ওই নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই মানসিক দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছিলেন আকসার। নথিপত্র জোগাড় করা এবং নাম কাটা যাওয়ার আতঙ্কে প্রায় খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
মৃতের আত্মীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে নথিপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তা করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে সাদিখাঁরদিয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অনুমান, মানসিক চাপের কারণে তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (Cardiac Arrest) তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ছয় সদস্যের অভাবী পরিবারে আকসার শেখই ছিলেন একমাত্র রোজগেরে। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং তাদের ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছে মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, “বারবার নিয়ম বদলানো হচ্ছে। একবার এক কাগজ চাইছে, পরক্ষণেই তা বাতিল করছে। সাধারণ মানুষ দিশেহারা। আকসার নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও কেন তাঁকে আবার হেয়ারিং-এ ডাকা হলো, সেই আতঙ্কেই ও মারা গেল।” ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ডোমকলের এসডিপিও (SDPO) শুভম বাজাজ জানিয়েছেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে এসআইআর-এর আতঙ্কে মৃত্যুর দাবি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং বিস্তারিত তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।”
