TOP NEWS

দিল্লির বুকে প্রতিবাদের ডাক: জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্য ফেরানোর দাবিতে সুর চড়াচ্ছে ওমর আবদুল্লা

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে ‘সংঘাত নয়, সহযোগিতা’-র যে নীতি নিয়ে এতদিন চলছিলেন, তা থেকে এবার সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা (Statehood) ফিরিয়ে দেওয়া এবং ৩৭০ ধারার অধীনে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে এবার খোদ দেশের রাজধানী দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC)। দলীয় সূত্রে খবর, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, বিধায়ক এবং দলের সাংসদেরা যৌথভাবে দিল্লির বুকে এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হবেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর, বিগত ১৯ মাস ধরে এই রাজনৈতিক ও আদর্শগত ইস্যুতে ওমরের ‘নরম মনোভাব’ নিয়ে দলের অন্দরেই যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তারই ফলশ্রুতি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বুধবার সকালে এক নজিরবিহীন কৌশলে দলের সমস্ত বিধায়ক, সাংসদ এবং মন্ত্রীদের নিয়ে শ্রীনগর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে নেটওয়ার্ক-বিহীন প্রত্যন্ত এলাকা ডাচিগাম জাতীয় উদ্যানে পাড়ি দেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। গুপকর রোডে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর সবাইকে বাসে তোলা হয়। অধিকাংশ নেতাই জানতেন না তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বাসের পিছনের সিটে বসে সমাজমাধ্যমে সেই ছবি শেয়ার করে একে একটি ‘অফ-সাইট’ বৈঠক বলে অভিহিত করেন। বিগত ১৯ মাসের সরকারের কাজের খতিয়ান নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলা হলেও, মূল উদ্দেশ্য ছিল দলের ভেতরের ক্ষোভ প্রশমন এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণ। বৈঠক শেষে ন্যাশনাল কনফারেন্সের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যত্ব এবং সাংবিধানিক গ্যারান্টি অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে নতুন দিল্লিতে যৌথ বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে জেকেএনসি।”

নির্বাচনী ইশতেহারে ৩৭০ ধারা এবং রাজ্যত্ব ফেরানোর বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও, সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে রহস্যজনক নীরবতা বজায় রেখেছিলেন। এর ফলে দলের নিচু তলার কর্মী ও নেতাদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হচ্ছিল যে, ন্যাশনাল কনফারেন্স তার রাজনৈতিক জমি হারাচ্ছে। ওমর আবদুল্লার সবচেয়ে বড় সমালোচক হিসেবে উঠে এসেছেন তাঁরই দলের শ্রীনগরের সাংসদ আগা রুহুল্লাহ। তিনি ওমরের বিরুদ্ধে ‘জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করার খোলাখুলি অভিযোগ এনে তাঁকে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করার দাবিও তুলেছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বুধবারের এই ডাচিগাম সফরে আগা রুহুল্লাহকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। এনডিটিভি-কে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন, “আমাকে এই বৈঠকের জন্য ডাকা হয়নি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার বারবার রাজ্যত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার এবং সরকারকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এতে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা নিজেও চরম হতাশ। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক ক্ষুব্ধ বিধায়ক বলেন, “কেন্দ্র কীভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত সরকারকে একটি ক্ষমতাহীন পুতুলে পরিণত করেছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের সরকারের হাতে একটি ‘পাটোয়ারি’ (রাজস্ব দপ্তরের নিচু পদের কর্মী)-কে বদলি করার ক্ষমতাটুকুও নেই। রাজস্ব দপ্তর নির্বাচিত সরকারের অধীনে হলেও, বাস্তবে আমরা পঙ্গু।” তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “সবকিছু আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতো চলতে পারে না। আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা আবার পুনরুদ্ধার করতেই হবে।” দিল্লির রাজপথে এই আন্দোলনের ডাক দিয়ে ওমর আবদুল্লা আসলে তাঁর হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক জমি ফিরে পাওয়ার জন্য ‘রিসেট’ বোতাম টিপলেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যত্ব ও বিশেষ মর্যাদা ছাড়াও এই দিনের বৈঠকে রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, মাদক সমস্যা, মদের লাইসেন্স বিতর্ক, সংরক্ষণ নীতি এবং ক্যাজুয়াল ও দৈনিক মজুরির কর্মীদের স্থায়ীকরণের মতো জনমুখী বিষয়গুলি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!