TOP NEWS

দিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যু: হোটেল মালিক লবকেশ বাজাজ গ্রেফতার

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকার একটি হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘ফ্লরিশ স্টে বিঅ্যান্ডবি’ (Flourish Stay B&B) নামক ওই হোটেল ভবনের মালিক লবকেশ বাজাজকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই লবকেশ ও তাঁর স্ত্রী পলাতক থাকায় পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার জারি করেছিল। অবশেষে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ২১ জনের মধ্যে ১০ জন ভারতীয় নাগরিক, ৯ জন আফ্রিকান নাগরিক এবং ২ জন তুর্কমেনিস্তানের বাসিন্দা।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পাঁচ তলা ওই বহুতল ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আবশ্যিক ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি ছিল না। অত্যন্ত ঘিঞ্জি একটি গলির মধ্যে অবস্থিত এই হোটেলটিতে আপদকালীন কোনো নিকাশি পথ ছিল না; যাতায়াতের জন্য ছিল মাত্র একটিই প্রবেশ ও প্রস্থান পথ। এ ছাড়া ভবনের সমস্ত জানালা পাকাপাকিভাবে সিল করা ছিল এবং মূল দরজাটি ছিল সেন্সর-চালিত। আগুন লাগার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে দরজাটি আটকে যায় এবং জানালা বন্ধ থাকায় ভেতরের মানুষ বের হতে পারেননি। এই ত্রুটিগুলির কারণেই উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হয় এবং এত মানুষের দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ (B&B) নীতি অনুযায়ী হোটেলটির মাত্র ৬টি ঘর চালানোর অনুমতি ছিল। কিন্তু সেখানে বেআইনিভাবে বেজমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ ঘরসহ প্রায় ২৫টি রুম চালানো হচ্ছিল। সরকারি কোনো অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে মূল ভবনের ওপর একের পর এক অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি পর্যটককে হোটেলটিতে রাখা হয়েছিল, যা সুরক্ষাবিধির চরম লঙ্ঘন।

আগুন লাগার পর দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে অন্তত ৫৮ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা ২১ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ‘অপরাধমূলক নরহত্যা’ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃত লবকেশ বাজাজ ছাড়াও এই হোটেলের ব্যবসার সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!