নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: দীর্ঘ বহু বছর ধরে পড়ে থাকা ডোমকল ও করিমপুরের সংযোগকারী অসমাপ্ত বক্সীপুর ব্রীজ কি অবশেষে পূর্ণতা পেতে চলেছে? কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি পদক্ষেপ অন্তত তেমনই আশার আলো দেখাচ্ছে দুই পারের হাজার হাজার মানুষকে। বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা এই ব্রীজের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন ডোমকলের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান আনসারী। সেই মামলাটি হাইকোর্টে গৃহীত হওয়ায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে জেলাজুড়ে। আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, বক্সীপুর ব্রীজ তৈরীর জন্য জনস্বার্থ মামলা আজ মহামান্য হাইকোর্টে গৃহীত হলো। পরের সপ্তাহে মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও মানুষের ক্ষোভ
ডোমকল থেকে করিমপুর যাওয়ার পথে বক্সীপুর ব্রীজটি যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই মহকুমার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং কৃষি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির স্বার্থে এই ব্রীজের গুরুত্ব অপরিসীম। অভিযোগ, ব্রীজের একটি বড় অংশের কাজ দীর্ঘদিন আগে শেষ হলেও অজ্ঞাত কারণে কাজ মাঝপথে থমকে যায়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। জলপথ বা দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় ও অর্থ— দুটিরই অপচয় হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
আইনি লড়াইয়ের সূচনা
যখন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি, তখন ময়দানে নামেন ডোমকলের আইনজীবী রবিউল ইসলাম। তিনি কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং বৃহত্তর জনমত গড়ে তোলার দিকে জোর দেন। এই ব্রীজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডোমকল ও করিমপুর জুড়ে সাধারণ মানুষের সই সংগ্রহ অভিযান চালানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দাবিকে ঘিরে জনমত গঠন করা হয় এবং যাবতীয় নথিপত্র একত্রিত করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
আদালতের গ্রিন সিগন্যাল
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে এই জনস্বার্থ মামলাটি পেশ করা হয়। বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি গৃহীত হয়েছে। আদালত এই বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে পরবর্তী শুনানির দিনও স্থির করে দিয়েছে। আগামী সপ্তাহের ৫ই ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

আদালত এই মামলায় রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কাজের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কেন কাজ বন্ধ হয়ে আছে, সে বিষয়ে রিপোর্ট তলব করতে পারে বলে আইনজীবী মহল মনে করছে। আইনজীবী রবিউল ইসলাম ‘ডেইলি ডোমকল’-কে বলেছেন, দীর্ঘ বছর ধরে বক্সীপুর ব্রীজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ব্রিজটির ৯০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ, বাকি ১০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। বিগত দিনে কয়েকবার কাজের টেন্ডার হয়েছে, আবার বাতিল হয়েছে। ব্রীজটি সম্পূর্ণ হলে দুই জেলার বহু মানুষ উপকৃত হবেন। যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলবে। আমরা এবিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ
মামলাটি গৃহীত হওয়ার খবর পৌঁছাতেই ডোমকল ও করিমপুর দুই এলাকাতেই খুশির হাওয়া। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, রাজনীতির রং ভুলে যে অভাব অভিযোগ নিয়ে তাঁরা দীর্ঘকাল লড়াই করছিলেন, তার একটি আইনি সমাধান এবার মিলতে পারে। বিশেষ করে সই সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেওয়া মানুষজন এখন তাকিয়ে আছেন ৫ই ফেব্রুয়ারির দিকে। এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “এই ব্রীজটি আমাদের জন্য স্রেফ ইঁট-পাথরের কাঠামো নয়, এটি আমাদের রুজিরুটির সাথে যুক্ত। হাইকোর্ট বিষয়টি গ্রহণ করেছে শুনে আমরা আশাবাদী যে এবার নিশ্চয়ই জট কাটবে।”
যদিও আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে তা সময়ই বলবে। বক্সীপুরের অসমাপ্ত ব্রিজের ওপর দিয়ে যান চলাচলের স্বপ্ন কি এবার সত্যি হবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
(কলকাতা হাইকোর্ট। || নিজস্ব চিত্র।)
(দুই জেলার সংযোগকারী অসমাপ্ত বক্সীপুর ব্রীজ। || নিজস্ব চিত্র।)
