TOP NEWS

সাগরপাড়ায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী খুনে ৮ দিন পার: এখনও অধরা খুনি, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

(ঘটনাস্থলে নমুনা সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। || নিজস্ব চিত্র)

নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: দিন যায়, রাত ফুরায়, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে কেটে গিয়েছে আট’টি দিন। কিন্তু সাগরপাড়ার মেধাবী ছাত্র সাহিন মন্ডলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কিনারা তো দূরস্ত, একজন সন্দেহভাজনকেও এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সময় যত গড়াচ্ছে, পরিবারের উদ্বেগ তত বাড়ছে। আর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তদন্তের জল কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে কার্যত অন্ধকারে হাতড়াচ্ছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নৃশংস খুন

প্রসঙ্গত, সোমবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় সাগরপাড়ার খয়রামারি পাঁজরাপাড়ার দশম শ্রেণির পড়ুয়া সাহিন মন্ডল (১৬)। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান মেলেনি। পরদিন মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে স্থানীয়দের নজরে আসে পেঁয়াজের খেতের মধ্যে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকা তার দেহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সাগরপাড়া থানার পুলিশ এবং শুরু হয় তদন্ত।

Read More: সাগরপাড়ায় মাঠের মধ্যে কিশোরের নলি কাটা দেহ উদ্ধার

তদন্তের গতিপ্রকৃতি: সিআইডি ও ডগ স্কোয়াডও ‘ব্যর্থ’?

ঘটনার নৃশংসতা বিচার করে বুধবার থেকেই তদন্তে গতি আনার চেষ্টা করে প্রশাসন। পুলিশের পাশাপাশি ময়দানে নামানো হয় সিআইডি (CID), ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং ডগ স্কোয়াড টিমকে। সংগ্রহ করা হয় ফরেনসিক নমুনা। কুকুরের সাহায্যে আততায়ীর পালানোর পথ খোঁজার চেষ্টা করা হলেও তাতে খুব একটা সুবিধা হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে সাহিনের সহপাঠী, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং স্থানীয় বেশ কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। খতিয়ে দেখা হয়েছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। এমনকি গোপন সোর্স বা তথ্যের আদান-প্রদানও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু রহস্যের জট খোলার মতো কোনও ‘ক্লু’ বা সূত্র এখনও তদন্তকারীদের হাতে আসেনি। খুনের মোটিভ বা উদ্দেশ্য নিয়েও ধোঁয়াশা কাটছে না। এটি কোনও পুরনো শত্রুতা, নাকি কিশোর বয়সের কোনও আক্রোশ, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

শোকাতুর পরিবার ও প্রশাসনের আশ্বাস

নিহত পড়ুয়ার মামা সেতাবুদ্দিন শেখের কণ্ঠে আজ হতাশা ও আশার দোলাচল। তিনি বলেন, “আট দিন হয়ে গেল, আমাদের বুক খালি হয়ে আছে। পুলিশ এখনও কাউকে ধরতে পারেনি। তবে ওনারা আমাদের কথা দিয়েছে যে খুব দ্রুত খুনিকে ধরা হবে। প্রশাসনের ওপর আমাদের এখনও আস্থা আছে, আমরা চাই সাহিন সঠিক বিচার পাক।”

অন্যদিকে, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ডোমকলের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) শুভম বাজাজ ‘ডেইলি ডোমকল’-কে জানিয়েছেন, “তদন্তের কাজ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চলছে। আমরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি। ফরেনসিক এবং সোর্স ইনপুট—সবগুলোকেই কাজে লাগানো হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘটনার কিনারা করা এবং অপরাধীকে সাজা দেওয়া।”

ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য: কেন এই বিলম্ব?

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাহিন শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক পরিণতি গ্রামবাসী মেনে নিতে পারছেন না। সাহিনের বইগুলো আজও টেবিলে পড়ে আছে, কিন্তু সেই পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সাহিন আর নেই। এদিকে প্রশ্ন উঠছে, জনবহুল গ্রাম সংলগ্ন পেঁয়াজের খেতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে অপরাধীরা কীভাবে বেমালুম উধাও হয়ে গেল? পুলিশের ‘ডার্ক ইনভেস্টিগেশন’ বা অন্ধকারে হাতড়ানো কি প্রমাণ লোপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে? এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত এই রহস্যের পর্দা ফাঁস করে অভিযুক্তকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে।

One thought on “সাগরপাড়ায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী খুনে ৮ দিন পার: এখনও অধরা খুনি, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!