নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল ব্লকের বিভিন্ন ফেরিঘাটে অবৈধ এবং অননুমোদিতভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি অবৈধ ফেরিঘাট নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল মামলা। এবার কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী রবিউল ইসলাম এই বিষয়ে সরাসরি ডোমকলের মহকুমা শাসক (SDO), ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO), ডোমকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (IC) এবং মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের (SP) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন। এই ঘটনায় সরকারি রাজস্বের বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে।
আইনজীবী রবিউল ইসলাম তাঁর অভিযোগে স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ডোমকল ব্লক এলাকার ফেরিঘাটগুলো এখন স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ (WPA 378/2025) অনুযায়ী, ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতিকে এই ফেরিঘাটগুলোর ইজারা বা বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশ অমান্য করে অসাধু চক্র ঘাটগুলো দখল করে রেখেছে।
আইনজীবী তাঁর অভিযোগপত্রে যে বিষয়গুলো উল্লেখ্য করেছেন:
অবৈধ দখলদারি: ফেরিঘাটগুলো এখন সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে স্থানীয় অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে।
রসিদবিহীন টোল: পারাপারের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হচ্ছে, যার বিপরীতে কোনো বৈধ রসিদ দেওয়া হচ্ছে না।
সরকারি কোষাগারের ক্ষতি: এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি তহবিলে জমা না হয়ে দুষ্কৃতীদের পকেটে যাচ্ছে, যার ফলে সরকার প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা: এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এই ঘটনার অন্যতম দিক হলো ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির প্রতিক্রিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “অপরিচিত ব্যক্তিরা” এই টাকা তুলছে এবং এর সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। আইনজীবী রবিউল ইসলাম তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ঘাটগুলোর অবৈধ টোল আদায় প্রসঙ্গে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান (সভাপতি) দায় এড়িয়ে গেছেন। আইনজীবী রবিউল ইসলাম জানান, “প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে জানানো সত্ত্বেও যখন ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিজেই বলেন যে দুষ্কৃতীরা টাকা তুলছে এবং তিনি অসহায়, তখন বুঝতে হবে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।”
ডোমকলের এই ফেরিঘাটগুলো স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অবৈধ টোল আদায়কারীদের দাদাগিরির কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে স্থানীয় দুষ্কৃতীরা সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। অবৈধ ফেরিঘাট নিয়ে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন আইনজীবী। রবিউল ইসলাম তাঁর অভিযোগে জানিয়েছেন, যদি অবিলম্বে এই বেআইনি টোল আদায় বন্ধ না করা হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের না করা হয়, তবে তিনি এই জনস্বার্থ বিরোধী ইস্যুটি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন। ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন’ (PIL) বা জনস্বার্থ মামলা করার কথা জানিয়ে প্রশাসনকে দ্রুত অ্যাকশন নেওয়ার আবেদন করেছেন রবিউল।
