TOP NEWS

“ভোট এলেই সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয় রাজনৈতিক লড়াই”: হিমন্তের বিতর্কিত ভিডিও মামলায় পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতির

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: নির্বাচন যত এগিয়ে আসে, রাজনৈতিক লড়াইয়ের একটি বড় অংশ সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে শুরু হয়ে যায়— অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি বিতর্কিত ভিডিও সংক্রান্ত পিটিশনের শুনানিতে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। অসম বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে এই মামলাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বিতর্কের মূলে কী রয়েছে?

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে গত শনিবার অসম বিজেপির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিও। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একটি রাইফেল দিয়ে দুজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন— যাঁদের মধ্যে একজনের মাথায় টুপি এবং অন্যজনের মুখে দাড়ি রয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল “পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শট”। ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখে ভিডিওটি পরে মুছে ফেলা হয়।

সুপ্রিম কোর্টে আবেদন

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এবং সিপিআই নেতাদের পক্ষ থেকে এই পিটিশনটি দাখিল করা হয়েছে। আইনজীবী নিজাম পাশা আদালতে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন— এমন ভিডিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি।” প্রধান বিচারপতি আবেদনটি গ্রহণ করে জানান, আদালত এই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করবে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, ডিব্রুগড়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভিডিওটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো ভিডিওর ব্যাপারে জানি না।” হায়দরাবাদে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দায়ের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “যদি আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকে, তবে আমাকে গ্রেপ্তার করা হোক। আমার কোনো আপত্তি নেই, আমি জেলে যেতে প্রস্তুত। আমি আমার অবস্থানে অনড়; আমি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরোধী এবং আজীবন তাই থাকব।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

১২৬ আসন বিশিষ্ট অসম বিধানসভার নির্বাচন এ বছরেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচনের মুখে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ-এর মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিডিও বিতর্ক রাজ্যের সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও উসকে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!