ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার রাতে জম্মুর উপকণ্ঠে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। আততায়ী একেবারে তাঁর ঘাড়ের কাছে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি চালালেও, নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান প্রবীণ এই জননেতা। এই ঘটনায় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিভিআইপিদের সুরক্ষা কবচ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পিটিআই-কে (PTI) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারুক আবদুল্লাহ তাঁর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে বলেন, “ঈশ্বর আমাকে রক্ষা করেছেন।” ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় আততায়ী একেবারে তাঁর ঘাড়ের পিছনে পৌঁছে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “ঠিক শেষ মুহূর্তে এনএসজি (NSG) এবং আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে জাপ্টে ধরে কাবু করে ফেলেন। আমাকে দ্রুত গাড়িতে তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।” বর্তমানে তিনি সুস্থ ও সুরক্ষিত আছেন বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীর নাম কমল সিং জামওয়াল। জম্মুর গ্রেটার কৈলাস এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সে আবদুল্লাহর অত্যন্ত কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ফারুক আবদুল্লা ‘জেড’ (Z) ক্যাটেগরির সুরক্ষা পান, যার মধ্যে এনএসজি কম্যান্ডোরাও থাকেন। তা সত্ত্বেও কীভাবে এক সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ রেঞ্জে পৌঁছে গুলি চালাতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে গোয়েন্দা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পিতার ওপর এই হামলার ঘটনায় সমাজমাধ্যমে এক্স-এ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি নিরাপত্তার গাফিলতির দিকে আঙুল তুলে লিখেছেন, “একজন ব্যক্তি লোড করা পিস্তল নিয়ে অত কাছ থেকে গুলি চালাল! শুধুমাত্র ক্লোজ প্রোটেকশন টিমের তৎপরতায় গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং প্রাণঘাতী হামলা ব্যর্থ হয়। উত্তর পাওয়ার চেয়ে এখন প্রশ্ন অনেক বেশি—কীভাবে একজন এনএসজি সুরক্ষা পাওয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে পৌঁছাতে পারল?”
ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী জম্মুতে পৌঁছে তাঁর পিতার বাসভবনে গিয়ে দেখা করেন। এই ঘটনার পর জম্মু-কাশ্মীরে সমস্ত কেন্দ্রীয় সুরক্ষা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের (Central Protectees) নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী, এই ধরনের হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের উপস্থিতির আগে গোটা এলাকা ‘স্যানিটাইজ’ বা বিপদমুক্ত করার কথা। কিন্তু বুধবারের ঘটনায় সেই নিয়মে বড়সড় ফাঁক ধরা পড়েছে। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা রুখতে কনভয়ে উন্নত মানের জ্যামার ব্যবহার এবং অ্যাক্সেস কন্ট্রোল বা প্রবেশের ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
ফারুক আবদুল্লাহর মতো বর্ষীয়ান নেতার ওপর এই হামলা উপত্যকার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আততায়ী কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নাকি এটি ব্যক্তিগত আক্রোশ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে নিছক ভাগ্য এবং দেহরক্ষীদের উপস্থিত বুদ্ধির জোরেই যে আজ এক বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গেল, তা একবাক্যে স্বীকার করছেন সকলে।
