ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সম্পন্ন হতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই মেগা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী থাকতে জেনেভায় উপস্থিত হবেন সে দেশের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী শুক্রবার এই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে, তা হবে বিগত ৪৭ বছরের ইতিহাসে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো সরাসরি ও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ। ১৯৭৯ সালের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে এত বড় মাপের কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বা চুক্তি স্বাক্ষর আর দেখা যায়নি।
প্রসঙ্গত, এর আগে সোমবার সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, দীর্ঘ এবং অত্যন্ত নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই চুক্তির শর্তানুযায়ী উভয় পক্ষই সমস্ত ফ্রন্টে—যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত—তাত্ক্ষণিকভাবে এবং স্থায়ীভাবে সমস্ত ধরণের সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা করেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের খবরটি সামনে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে গভীর স্বস্তির হাওয়া বইছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা হ্রাস পাওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে এই জেনেভা চুক্তি এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। এখন গোটা বিশ্বের নজর আগামী ১৯ জুনের দিকে।
