ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অর্জিত শান্তি চুক্তিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না ইজরায়েল সরকার। ইজরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সোমবার এই চুক্তিকে ইজরায়েল এবং সমগ্র “মুক্ত বিশ্বের” জন্য একটি অত্যন্ত “বাজে ও ক্ষতিকর” চুক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সাথে তিনি মার্কিন সাহায্য ছাড়াই ইজরায়েল একাই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ইজরায়েলি অর্থমন্ত্রী ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “ইরানকে দুর্বল করার জন্য আমাদের যৌথ সামরিক অভিযানে অনেক সাফল্য এসেছে, আর সেই সাফল্যগুলো আমরা কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেব না। ইরান যাতে কখনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা সুনিশ্চিত করতে এবং সে দেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আমাদের নিজেদেরই সম্পূর্ণ ‘ভিন্ন ও সৃজনশীল’ উপায়ে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।”
স্মোট্রিচ দাবি করেন, এই চুক্তির পর লেবানন সীমান্তে ইজরায়েল এক বড়সড় পরীক্ষার মুখে পড়বে। তবে হিজবুল্লাহকে সীমান্ত থেকে দূরে ঠেলে দিতে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে (IDF) যেন “সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা” দেওয়া হয়, তার জন্য তিনি নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে যাবেন। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার যখন এই চুক্তির ঘোষণা দেন, তখন তিনি স্পষ্ট করেছিলেন এই শান্তি চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ হবে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সোমবারও দক্ষিণ লেবাননে নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়ে গেছে ইজরায়েলি বিমান বাহিনী। ট্রাম্পের শান্তি চুক্তিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লেবাননের মাটিতে ইজরায়েলি সেনা তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী ইজরায়েলি হামলায় এযাবত ৩,৭০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন প্রায় ১১,৫০০ জন এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ১৫ লক্ষেরও বেশি সাধারণ নাগরিক। ইজরায়েলি অর্থমন্ত্রীর এই অনমনীয় মনোভাব এবং লেবাননে লাগাতার হামলা মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির স্থায়িত্বকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।
