নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: দীর্ঘদিনের ‘তপ্ত’ রাজনীতির তকমা ঝেড়ে ফেলে এক অন্য ডোমকলের সাক্ষী থাকল এবারের নির্বাচন। ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই শান্তির বার্তা ও জয়ের বিষয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন ডোমকলের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফ কথা, “ঘাম ঝরাও, রক্ত নয়”—এই স্লোগানকে সামনে রেখেই ডোমকলবাসী এবার গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ভোট শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ডোমকলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে তিনি ‘অভাবনীয়’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এত শান্তিপূর্ণ ভোট ডোমকলে এর আগে কখনও হয়নি। ডোমকলের সাধারণ মানুষ দেখিয়ে দিয়েছেন যে এখানেও রক্তপাতহীন নির্বাচন সম্ভব। আমার প্রধান লক্ষ্যই ছিল এলাকায় হিংসা রুখে দেওয়া। এই শান্তির জন্য আমি ডোমকলবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ।”
নির্বাচনী লড়াইয়ে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ এই তৃণমূল প্রার্থী। বিরোধীদের নিশানা করে তিনি স্পষ্ট জানান, ফেসবুক বা ইউটিউবে লড়াই করে ভোট জেতা যায় না; মানুষের মন জিততে হলে তাদের পাশে থেকে কাজ করতে হয়। উন্নয়নের নিরীখে তৃণমূল বিরোধীদের থেকে কয়েকশো গুণ এগিয়ে রয়েছে। কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে বিরোধী এজেন্টদের যোগ্য সম্মান দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।
নিজের জয় নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসারের। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে যে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি করেছে, তার ফল ইভিএমে প্রতিফলিত হবে। জয় নিশ্চিত জেনেই তিনি এখন ব্যস্ত ভোটের ‘লিড’ বা ব্যবধানের হিসেব নিয়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি ডোমকলে জিতছি—এ বিষয়ে আমি ফুল কনফিডেন্স। মানুষ তৃণমূলের উন্নয়নে আপ্লুত। তবে জয়ের ব্যবধান কতটা হবে, তা নিয়ে এখন হিসেব-নিকেষ করছি।”
শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার জন্য ডোমকলের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সংযম ও স্বতঃস্ফূর্ততাকে পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। এখন দেখার, ৪ জুন ব্যালট বাক্স খোলার পর তাঁর এই ‘কনফিডেন্স’ কতটা সফল হয়।
