TOP NEWS

উত্তরপ্রদেশে বিপর্যয়: হামিরপুরে ঝড়-বৃষ্টির রাতে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতু, ৬ শ্রমিকের মৃত্যু

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত দুটো নাগাদ প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বেতওয়া নদীর ওপর একটি নির্মীয়মাণ সেতু ভেঙে পড়ে অন্তত ৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কয়েকজন চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। মোরাকান্দার থেকে কান্দৌর গ্রাম পর্যন্ত সংযোগকারী এই সেতুর কাজ রাতের শিফটেও চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত দুটো নাগাদ আচমকা এলাকায় প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সময় কিছু শ্রমিক বৃষ্টি থেকে বাঁচতে একটি হাইড্রা মেশিনের নীচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঠিক তখনই সেতুটির স্ল্যাব ও পিলার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

দুর্ঘটনার তীব্রতা নিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “মধ্যরাতের পর এক মারাত্মক ঝড় শুরু হয়, যাতে আমাদের সবার ঘুম ভেঙে যায়। গ্রাম থেকে মাত্র ৪০০ মিটার দূরে বেতওয়া নদীর ওপর এই সেতুর কাজ সারা রাত ধরে চলছিল। ঝড়ের ঝাপটায় প্রথমে সেতুর ওপরের সেগমেন্ট বা অংশগুলি ভেঙে পড়ে। সেই ওজনের ধাক্কায় নীচের সাপোর্টিং পিলারগুলিও মড়মড় করে ভেঙে যায় এবং পুরো কাঠামোটি ধসে পড়ে। সেতু পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা আমাদের গ্রামের দুই গার্ড চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।”

খবর পেয়েই রাত দুটো নাগাদ পুলিশ ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হামিরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) অরবিন্দ কুমার বর্মা সাংবাদিকদের বলেন, “সেতুর স্ল্যাব ভেঙে কিছু মানুষ নীচে আটকে পড়েছেন, এই খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম এখানে আসে। এসডিআরএফ উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।” ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি চারজনকে বের করার চেষ্টা চলছে। নিহত ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী এক ১৯ বছরের তরুণও রয়েছে- লোকেন্দ্র (২২), কুলদীপ নিষাদ (১৯), সাওয়ান্ত যাদব (২৮), সভাজিৎ (৩০), পুষ্পেন্দ্র সিং চৌহান (৩৪) ও রাজেশ পাল (৪২)।

জানা যায়, সেতুটি যখন ভেঙে পড়ে, তখন তিনটি পিলার খাড়া ছিল এবং তার ওপর অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে আটকে পড়েন অবধেশ নিষাদ, কাল্লু যাদব এবং রাজেশ নিষাদ নামের তিন শ্রমিক। হামিরপুরের সার্কেল অফিসার রাজেশ কমল সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে জানিয়েছেন, “পিলারে আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে দুজনকে সুরক্ষিতভাবে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি একজন এখনও সেখানে আটকে রয়েছেন, তাঁকে উদ্ধারের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চেষ্টা চালানো হচ্ছে।” ঝড়ের কারণে এই দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে নির্মাণ সামগ্রীর নিম্নমানের মতো কোনও গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!