ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: তিরুবনন্তপুরমে নিজের ভাড়া বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর সাম্প্রতিক তল্লাশি অভিযান নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন কেরালার বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) (CPI-M) পলিটব্যুরো সদস্য পিনারাই বিজয়ন। শুক্রবার কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, মোদী সরকার বিরোধী দল এবং অন-বিজেপি রাজ্য সরকারগুলিকে কোণঠাসা করতেই এই সমস্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কেরালা বিধানসভায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের নীতি নির্ধারণী ভাষণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইডি এখন আর কোনও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে না; বরং একে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি নোংরা মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
তদন্তের আইনি দিক বা অভিযোগের গুণাগুণ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও, বিজয়ন দাবি করেন যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কেবল তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধেই এই সংস্থাগুলিকে লেলিয়ে দিচ্ছে। দেশজুড়ে চলা এই প্রবণতার দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, “কেবলমাত্র অন-বিজেপি সরকারগুলির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক শত্রুদের দমনে ইডি-কে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আমাদের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী।” এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসকেও একহাত নেন কেরালা বিধানসভার এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত যখন কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে যায়, তখন তারা তা সানন্দে সমর্থন করে; অথচ নিজেদের নেতাদের ওপর খাঁড়া নেমে আসলেই তারা চিৎকার শুরু করে। অন্যান্য রাজ্যের বিরোধী নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের এই দ্বিচারিতার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পিনারাই বিজয়নের বাসভবনে ইডি-র ম্যারাথন তল্লাশির পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম সরাসরি প্রতিক্রিয়া। উল্লেখ্য, কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (CMRL) এবং বিজয়নের কন্যা বীণা বিজয়নের মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’-এর মধ্যে হওয়া বিতর্কিত আর্থিক লেনদেনের মামলার তদন্ত সূত্রেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল। মামলার গভীরে না ঢুকে বিজয়ন সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেন যে, এই তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর কন্যা বীণা বিজয়নের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তবে তল্লাশি চলাকালীন ইডি আধিকারিকরা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে কোনও জিজ্ঞাসাবাদ করেননি বলেও তিনি জানান।
গোটা ঘটনাপ্রবাহে সিপিবাহিনীবিরোধী জোট ও শাসক শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্ষীয়ান এই বাম নেতা মামলার মূল অভিযোগ বা ইডি-র হাতে আসা তথ্যের সত্যতা নিয়ে কোনও মন্তব্য করা সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছেন। পরিবর্তে, পুরো বিষয়টিকে তিনি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ও ‘তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহার’ হিসেবেই আমজনতার দরবারে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তদন্ত যত এগোচ্ছে, এই আইনি লড়াই কেরালার মাটিতে ততই এক বড় রাজনৈতিক রূপ ধারণ করছে। আগামী দিনগুলিতে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণের এই রাজ্যের রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
