ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তার দেহটি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। গোয়ালিয়রের গুপ্তেশ্বর পাহাড় এলাকা থেকে নাবালিকার দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিন্দ জেলার বাসিন্দা ওই কিশোরী গত ২৮ মে থেকে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সন্ধান করার সময় রামু গুর্জর নামে এক যুবকের ফোন নম্বর খুঁজে পান। কিন্তু কিশোরীর কোনও হদিশ না মেলায় তারা মউ থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মূল অভিযুক্ত রামু গুর্জর ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে গোয়ালিয়রে নিয়ে এসেছিল। এরপর গুপ্তেশ্বর পাহাড়ের নবগ্রহ মন্দিরের কাছে একটি নির্জন জায়গায় রামু এবং তার দুই সহযোগী অরুণ কুশওয়াহ ও গৌরব কুশওয়াহ মিলে কিশোরীকে গণধর্ষণ করে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে, প্রথমে তারা কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করে এবং পরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এখানেই শেষ নয়, গত ২৯ মে অপরাধের সমস্ত প্রমাণ ও নাবালিকার পরিচয় সম্পূর্ণ মিটিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা মরদেহের ওপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে মূল অভিযুক্ত রামু গুর্জরকে আটক করে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই গোয়ালিয়র থেকে বাকি দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার যখন ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর দগ্ধ দেহাংশ গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়, তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবার ও গ্রামবাসীরা। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা মৃতদেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং পথ অবরোধ করেন। ধৃত তিন অভিযুক্তের অবিলম্বে ফাঁসি এবং কঠোরতম শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ঘটনার অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। নির্যাতিতার পরিবার যাতে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ বিচার পায়, তার জন্য মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
