TOP NEWS

প্রয়াত বলিউডের প্রখ্যাত প্রযোজক ও সেন্সর বোর্ডের সাবেক প্রধান পহলাজ নিহালানি

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: অবসান হলো বলিউডের ‘মশলা চলচ্চিত্রের’ একটি স্বর্ণযুগের। হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট প্রযোজক, পরিবেশক এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর সাবেক চেয়ারম্যান পহলাজ নিহালানি প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি লিভার বা যকৃতের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রয়াত প্রযোজকের পারিবারিক বন্ধু শশী রঞ্জন জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতাল থেকে সম্প্রতি তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। মুম্বাইয়ের নিজস্ব বাসভবনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৪ মে বিকেল ৩টেয় মুম্বাইয়ের বান্দ্রার একটি শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

আশির দশকের শুরুতে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে প্রযোজক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন পহলাজ নিহালানি। গত চার দশক ধরে তিনি ছিলেন বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী এবং চর্চিত ব্যক্তিত্ব। সাধারণ দর্শকদের বিনোদনের জন্য একের পর এক বাণিজ্যিক ও সফল মূলধারার সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে তৈরি সফল ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে ‘হাথকড়ি’ (১৯৮২), ‘আঁধি-তুফান’ (১৯৮৫), ‘ইলজাম’ (১৯৮৬), ‘আগ হি আগ’ (১৯hot), ‘পাপ কি দুনিয়া’ (১৯৮৮) এবং ‘শোলা অউর শবনম’ (১৯৯২)। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার হিট ছিল ১৯৯৩ সালের গোবিন্দ এবং চঙ্কি পান্ডে অভিনীত ‘আঁখে’। কমেডি-ড্রামা ঘরানার এই ছবিটি সে বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী হিন্দি ছবিগুলির অন্যতম ছিল।

বলিউডের অনেক প্রতিষ্ঠিত তারকার ক্যারিয়ার গড়ার পেছনে পহলাজ নিহালানির বড় অবদান ছিল। ১৯৮৬ সালে তাঁর প্রযোজিত ‘ইলজাম’ ছবির মাধ্যমেই নায়ক হিসেবে বলিউডে অভিষেক ঘটেছিল গোবিন্দের। এই ছবির বিপুল সাফল্য গোবিন্দকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। একইভাবে অভিনেতা চঙ্কি পান্ডেকেও ‘আগ হি আগ’ ছবির মাধ্যমে প্রথম বড় ব্রেক দিয়েছিলেন নিহালানি। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি প্রায় তিন দশক ধরে ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ মোশন পিকচার অ্যান্ড টিভি প্রোগ্রাম প্রডিউসার্স’ (AMPTPP)-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন।

২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় সরকার পহলাজ নিহালানিকে সেন্সর বোর্ড (CBFC)-এর চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করে। তাঁর এই কার্যকাল ছিল বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়। ছবিতে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখার পক্ষে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি, যার ফলে চলচ্চিত্র জগতের একাংশের সাথে তাঁর তীব্র সংঘাত বাঁধে।পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা নিয়ে তৈরি ‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবিতে সেন্সর বোর্ড একাধিক কাটছাঁটের নির্দেশ দিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং নিহালানি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। এই ছবিটিকে প্রথমে সেন্সর শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করায় বাক-স্বাধীনতা এবং শৈল্পিক স্বাধীনতা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। একের পর এক বিতর্কের জেরে অবশেষে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হন প্রসূন জোশী। বিতর্ক কিংবা বাণিজ্যিক ছবির সাফল্য— রূপালি পর্দার দুনিয়ায় পহলাজ নিহালানি নিজের মতো করে এক গভীর ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলিপাড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!