ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে একটি বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমগ্র জয়পুর জুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। একই সাথে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জয়পুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। জয়পুরের বিভাগীয় কমিশনার ভি সরবনা কুমার পুলিশ কমিশনারের একটি চিঠির সূত্র ধরে জানিয়েছেন, জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সোমবার থেকে একটি “ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান” শুরু করছে। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, তার জন্যই এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
বিভাগীয় কমিশনার ভি সরবনা কুমার এক আদেশে জানিয়েছেন, এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়া, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক ভিডিও, ছবি বা মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণেই ৮ জুন রাত ১২টা থেকে শুরু করে ৯ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) সমগ্র জয়পুর জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ ব্যান বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ঝালানা দুংরি এলাকার ‘রাজস্থান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার’-এর আশেপাশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে এই ইন্টারনেটের নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধের পাশাপাশি জয়পুর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা হয়েছে কড়া আইনি নিষেধাজ্ঞা। জরুরি পরিস্থিতি ও আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে নতুন অপরাধ আইন বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা (যা প্রাক্তন সিআরপিসি-র ১৪৪ ধারার সমতুল্য) জারি করা হয়েছে। এই আদেশ অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি ছাড়া জয়পুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার অন্তর্গত কোনো সরকারি রাস্তা বা পাবলিক প্লেসে কোনো ধরণের র্যালি, মিছিল, বিক্ষোভ প্রদর্শন, সভা বা জমায়েত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বিয়ের অনুষ্ঠান, বিয়ের শোভাযাত্রা এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো সামাজিক আচার এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
প্রশাসনের তরফ থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেকোনো পাবলিক প্লেস বা সরকারি জায়গায় ৫ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত বা একজোট হওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে র্যালি বা মিছিল করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (ACP)-র কাছ থেকে লিখিত আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠন ইন্টারনেট বা সামাজিক মাধ্যমে (হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, ফেসবুক ইত্যাদি) এমন কোনো উস্কানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর মেসেজ পোস্ট বা ফরোয়ার্ড করতে পারবে না, যা জননিরাপত্তা বা শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। একই সাথে গুজব ছড়ানো বা গুজবে ইন্ধন দেওয়ার ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রশাসনিক থেকে জানানো হয়েছে, এই কড়া নিষেধাজ্ঞাটি গত ৭ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং আগামী ২২ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই মেয়াদ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তুলে নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উচ্ছেদস্থল ও শহরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
