এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে অন্যতম বড় চমক ডোমকল কেন্দ্রের ফলাফল। একসময়ের বাম দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই জনপদে দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও উড়েছে লাল পতাকা। শাসক দলের সমস্ত রণকৌশল, অর্থবল এবং চক্রান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডোমকলের আপামর সাধারণ মানুষ ঘরের ছেলেকে ঘরের চাবিকাঠি সঁপে দিয়েছেন। নির্বাচন শেষ, উত্তেজনা থিতিয়ে এসেছে, কিন্তু মানুষের প্রত্যাশার পারদ এখন আকাশচুম্বী।
জয়ের পর কেমন কাটছে ডোমকলের বাম বিধায়কের দিনগুলো? বিলাসী বিধায়ক জীবন নাকি মাটির মানুষের সাথে থেকে সেই চেনা লড়াইয়ের চেনা মেজাজ? নির্বাচনোত্তর ডোমকলের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আগামী দিনের উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে ‘ডেইলি ডোমকল’-এর মুখোমুখি একান্ত সাক্ষাৎকারে ডোমকলের নবনির্বাচিত সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (রানা)।
প্রশ্ন: ফল প্রকাশের রাতে (৪ মে) শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছিলেন? নাকি একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছিল?
উত্তর: একদম শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছিলাম। আসলে আমি মনে-প্রাণে নিশ্চিত ছিলাম যে এই আসনটি আমরাই জিতব। কারণ, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের এই লড়াইটা কোনো সাধারণ রাজনৈতিক লড়াই ছিল না, এটা লড়েছে স্বয়ং ডোমকলের সাধারণ মানুষ। সর্বোপরি, এটা ছিল ডোমকলের আপামর জনতার নিজের লড়াই। আমার এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাথ দিয়েছিল, তাতে পথটা আমার কাছে অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল। এই মাটির মানুষের ওপর আমার অগাধ ভরসা ছিল, আর সেই কারণেই জয় নিয়ে আমি প্রথম থেকেই ১০০ ভাগ নিশ্চিত ছিলাম।
প্রশ্ন: জয়লাভের পর যখন নিশ্চিত হলেন যে আপনিই ডোমকলের নতুন বিধায়ক, তখন প্রথম অনুভূতি বা প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: দেখুন, আমি বিগত ২০১৪-১৫ সাল থেকে একেবারে নিচুতল থেকে দলের হয়ে লড়াই করছি। তাই হঠাৎ করে বিধায়ক হয়ে যাওয়াটা আমার কাছে কোনো বিলাসিতা নয়। এবার ডোমকলের মানুষ আমার কাঁধে একটা মস্ত বড় দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন, এখন দিন-রাত এক করে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। দলের সাংগঠনিক কাজ করার পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং সরকারি পরিষেবাগুলো যাতে প্রত্যেকটি মানুষের দুয়ারে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিক ভাবে, মানুষের পাশে থেকে তাঁদের কাজ করাটাই এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও কর্তব্য।
প্রশ্ন: আপনার নির্বাচনী প্রচারের যে কৌশল আমরা দেখেছি, তার পেছনে কি আই-প্যাক-এর মতো কোনো কর্পোরেট এজেন্সির মগজ কাজ করছিল, নাকি পুরোটাই মাটির টান?
উত্তর: (হেসে) আই-প্যাকের মতো সংস্থা ওসব কিছু না। আমি বছরের ৩৬৫ দিন যেভাবে সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করি, ডোমকলের প্রতিটা মানুষ তা ভালো করেই জানেন। হ্যাঁ, বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর এখন কাজের পরিধি ও দায়িত্ব অনেকটাই বেড়েছে। ফলত, বিভিন্ন সরকারি দফতরে বা নানা দূরবর্তী দলীয় কর্মসূচিতে দ্রুত যাওয়ার জন্য এখন বাধ্য হয়ে একটা গাড়ি ভাড়া করে চলতে হচ্ছে। পরিস্থিতির খাতিরেই এটা আমাকে করতে হচ্ছে। কিন্তু বিধায়ক হওয়ার আগে তো বছরের পর বছর একটা পুরোনো মডেলের ইয়ামাহা (Yamaha) বাইকে চেপেই রোদ-ঝড়-জল মাথায় নিয়ে দলের কাজ করেছি।
বিধায়ক হওয়ার আগেও আমি সাধারণ মানুষের সাথে চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়েছি, নিজের মাঠে নেমে চাষবাস করেছি, আজ বিধায়ক হওয়ার পরেও আমি ঠিক সেটাই করি। আরেকটা জিনিস না বললেই নয়— মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বা এসিতে বসে কখনো বামপন্থী নেতা হওয়া যায় না। সাধারণ হয়ে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখা— এটাই তো আসল বামপন্থা। আমি শুধু সেটুকুই পালন করি।
প্রশ্ন: এই ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াই থেকে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী ছিল?
উত্তর: একটাই শিক্ষা— নিজের জমির মাটি কামড়ে পড়ে থাকা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে লড়াইটা জারি রাখা। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারালে চলবে না।
প্রশ্ন: ২০২৬-এ এসে ডোমকলের মানুষ আবার সিপিআইএম-এর ওপরই ভরসা রাখল— এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে মূল কারণ কোনটি? তৃণমূলের বহিরাগত প্রার্থী নাকি তৎকালীন শাসকের অবাধ দুর্নীতি?
উত্তর: আমি বলব দুটোই বড় ভূমিকা পালন করেছে। প্রথমত, ডোমকলের মানুষ কখনো ‘বহিরাগত প্রার্থী’ পছন্দ করেনি এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই এলাকার মানুষ অত্যন্ত সচেতন। তাঁরা ভেবেছেন, কোনো স্থানীয় মানুষ যদি বিধায়ক হন, তবে বিপদে-আপদে তাঁকে সবসময় ঘরের কাছে পাওয়া যাবে। তাই শাসক দলের সমস্ত চক্রান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে মানুষ বামেদের জিতিয়েছে, এটা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই।
দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি অবশ্যই একটা বিরাট কারণ ছিল। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকলের মানুষ যে বিধায়ককে নির্বাচিত করেছিলেন, তিনি এই এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তৎকালীন বিধায়কের কার্যকলাপে ডোমকলের মানুষ চরম ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত ছিলেন। তৃণমূলের এই ১৫ বছরের শাসনে ডোমকল এলাকার কোনো প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি; যা হয়েছে তা হলো স্রেফ লুটরাজ আর শাসক দলের গুটি কয়েক নেতার নিজেদের পকেটের উন্নয়ন।
ডোমকলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কমরেড আনিসুর রহমানকে বিধায়ক এবং মন্ত্রী হিসেবে দেখেছেন। তাঁরা তাঁর সততা এবং কাজ করার মানসিকতা দেখেছেন। ডোমকলে আজ যা কিছু পরিকাঠামো বা উন্নয়ন দেখছেন, তার সবটাই হয়েছে বামেদের সময়ে। সর্বোপরি, তৎকালীন মন্ত্রী আনিসুর রহমান ডোমকলকে অন্য চোখে দেখতেন, ভালোবাসতেন। যার ফলে এই এলাকার একটা সার্বিক উন্নয়ন হয়েছিল। ফলে এলাকার মানুষ এই ১৫ বছরে ভালো-মন্দের তফাতটা বুঝেছেন এবং হাড়হাড় খতিয়ান মিলিয়ে উপলব্ধি করেছেন যে, বামপন্থী ছাড়া এই এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: যখন চারিদিকে দলবদলের হিড়িক, তখনো আপনি লাল ঝান্ডা ছাড়েননি। এই কঠিন সময়ে মাটিতে টিকে থাকার এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণার আসল মন্ত্র কী?
উত্তর: দেখুন, এই লড়াইয়ের পেছনে কমরেড আনিসুর রহমান থেকে শুরু করে দলের আরও অনেক প্রবীণ নেতাদের একটা বিরাট ভূমিকা ছিল। আব্দুল বারি সাহেবদের মতো মানুষরা এই এলাকায় রক্ত জল করে দলের মাটি তৈরি করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে শত কষ্ট সহ্য করে, এখানে পার্টিকে দাঁড় করিয়েছেন আমাদের কমরেডরা। এই এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমিকদের হৃদয়ে এই পার্টিটা গভীরভাবে গেঁথে আছে। এমনি এমনি তো আর ডোমকলকে বামেদের ‘দুর্গ’ বা ঘাঁটি বলা হয় না! আমার এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় সাহস জোগান এবং অনুপ্রেরণা দেন আমার দলের লড়াকু কমরেডরা এবং এই এলাকার মেহনতি মানুষরা। তাঁদের চোখের দিকে তাকালে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
প্রশ্ন: যখন গোটা রাজ্যে সিপিআইএম বা বামেরা কোথাও খাতা খুলতে পারেনি, তখন আপনিই একমাত্র ডোমকলে বামেদের জয়ের প্রদীপ জ্বালালেন। এই ফলাফল কি ডোমকল তথা বাংলার রাজনৈতিক মানসিকতার একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
উত্তর: অবশ্যই, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। মানুষ সত্যিই এই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিলেন বলেই তো তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে হটিয়েছেন। এক ধাক্কায় দুশোর বেশি আসন নিয়ে অহংকারে ভুগতে থাকা তৃণমূলকে মানুষ একজোট হয়ে টেনে ক্ষমতা থেকে নামিয়েছেন। ডোমকলের এই রায় আসলে গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং এটি রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
প্রশ্ন: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই অভাবনীয় জয়ের পর কি আলাদাভাবে আলিমুদ্দিনে (দলের রাজ্য সদর দফতর) আপনার গ্রহণযোগ্যতা বা গুরুত্ব বাড়ল?
উত্তর: (একটু ভেবে) আমি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছি বলেই রাতারাতি আমার গ্রহণযোগ্যতা হু হু করে বেড়ে গেছে— বিষয়টা কিন্তু ঠিক তেমন নয়। আমি ইতিমধ্যেই দলের জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছি। তবে হ্যাঁ, একজন বিধায়ক হিসেবে দলের কাছে যে সম্মান বা গুরুত্বটা পাওয়া দরকার, সেটা তো অবশ্যই বেড়েছে। কিন্তু আমি মনে করি, গুরুত্ব বা গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার চেয়েও আমার ওপর দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা এখন অনেক বেশি বেড়ে গেছে।
প্রশ্ন: আপনার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন কোনো কালো মুহূর্ত বা দিন এসেছিল, যখন মনে হয়েছিল দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে এবং এই লড়াই হয়তো আর সামনে এগোবে না?
উত্তর: সত্যি কথা বলতে গেলে, আমরা হলাম বামপন্থী রাজনীতির আদর্শে বড় হওয়া মানুষ। ফলে বামপন্থী আন্দোলনে থেকে এমন ধারণা বা ভাবনা মাথায় আনাটাই সম্পূর্ণ অমূলক। আমাদের এই সংসদীয় ব্যবস্থায় দুই ধরনের লড়াই হয়— একটি হলো ভোটের লড়াই, অপরটি হলো রাজপথ বা রাস্তার লড়াই। আমাদের এই লড়াই তো কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা গদি পাওয়ার লড়াই নয়, এই লড়াইটা সম্পূর্ণ মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই। ফলে আমার কখনোই মনে হয়নি যে লড়াই আর এগোবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— বামপন্থীদের কাছে বা আমাদের আদর্শে কোনো ‘হতাশার’ জায়গা নেই।
এর আগের নির্বাচনে মানুষ আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থায় অর্থাৎ ভোটে চাননি, তাই হয়তো আমরা বিধানসভায় শূন্য ছিলাম বা আমাদের ভোট শতাংশ কিছুটা কমেছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের হয়ে রাস্তার লড়াই থেকে আমরা কিঞ্চিৎ পরিমাণও পিছুপা হইনি। আর এই রাস্তার লড়াইয়ে আমরা কখনোই শূন্য ছিলাম না, আজো নই। আগে যেভাবে সাধারণ মানুষের হকের দাবিতে লড়াই করেছি, আগামী দিনেও ঠিক একইভাবে বুক চিতিয়ে লড়াই করব। আমি হতাশায় বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করি না। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, এই রাজ্যের আগামীর ভবিষ্যৎ একমাত্র বামপন্থাই।
প্রশ্ন: ডোমকলের সবচেয়ে বড় তিনটি সমস্যা কী বলে আপনি মনে করেন? এলাকার বিধায়ক হিসেবে আগামী ৫ বছরের জন্য আপনার শীর্ষ ৩টি অগ্রাধিকার বা মূল লক্ষ্য কী কী?
উত্তর: ডোমকলের বিধায়ক হিসেবে আমার প্রথম এবং অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো— এলাকার ‘রবীন্দ্র-নজরুল ভবন’-এর অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করে তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা। আমি আশা করছি, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই আমরা এই ভবনের শুভ উদ্বোধন করতে পারব।
দ্বিতীয়ত, ডোমকলের যুবসমাজ এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য একটি আধুনিক স্টেডিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজন। এখানে একটি স্টেডিয়ামের কাজ প্রস্তাবিত হয়েও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে, সেই কাজটিকে দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা আমার দ্বিতীয় লক্ষ্য। এবং তৃতীয়ত, এই এলাকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বর্তমানে খানাখন্দে ভরে গেছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামনেই বর্ষা শুরু হচ্ছে, এই সময়ে রাস্তাগুলোর অবস্থা আরও করুণ হয়ে যাবে। তাই সেই সমস্ত রাস্তাগুলো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সংস্কার করার জন্য আমি ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
প্রশ্ন: ডোমকলের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে আপনি নতুন কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন?
উত্তর: দেখুন, এই এলাকার অধিকাংশ মানুষই অত্যন্ত দরিদ্র, দিন আনা দিন খাওয়া মেহনতি পরিবার। তাই তাঁদের জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নটা সবচেয়ে আগে জরুরি। ডোমকল মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামোয় এখনও অনেক বড় ঘাটতি রয়েছে, সেই ঘাটতি পূরণ করা আমার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে। পাশাপাশি, এলাকার সরকারি স্কুলগুলির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়, সেগুলি কার্যত ধুঁকছে। স্কুলগুলোতে বসার বেঞ্চ থেকে শুরু করে ক্লাসরুমের অভাব, আবার অন্যদিকে পর্যাপ্ত শিক্ষকও নেই। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল-কলেজগুলোতে অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিয়মিত আসেনও না। এই বিষয়গুলোতে আমি ব্যক্তিগতভাবে কড়া নজর দেব। কারণ, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। বিগত শাসক দল তো দুর্নীতি করে হাতে ধরে আমাদের শিক্ষার মেরুদণ্ডটাকেই ভেঙে দিয়েছে। এই ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরায় উজ্জীবিত করা ভীষণ প্রয়োজন এবং তার জন্য একজন বিধায়ক হিসেবে যা যা করার, আমি সব করব।
প্রশ্ন: পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা এই অঞ্চলের একটি দীর্ঘদিনের বড় ব্যাধি। ডোমকলের যুবসমাজ যাতে নিজেদের এলাকাতেই কাজের সুযোগ পায় এবং তাঁদের ভিন রাজ্যে যেতে না হয়, তার জন্য বিধানসভায় বা প্রশাসনিক স্তরে আপনার কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি?
উত্তর: এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে ডোমকলের হাজার হাজার তরতাজা যুবককে পেটের তায়ে বাইরে গিয়ে মরতে হচ্ছে। আমি নতুন রাজ্য সরকারের কাছে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জোরালো দাবি জানাবো, যাতে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর (MSME) স্বার্থে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয় এবং সেগুলির সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো হয়। কারণ, ভারী বা মাঝারি শিল্পায়ন ছাড়া নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থান ফেরানোর দাবিতে আমাদের দল দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে লড়াই করছে, আর সেই লড়াইয়ের একজন একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে আমি বিধানসভার ভেতরে এবং বাইরে ডোমকলের যুবকদের হকের কাজের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।
প্রশ্ন: বিধানসভায় বামেদের তরফ থেকে আপনিই একমাত্র কণ্ঠস্বর। শাসক দল এবং অন্যান্য বড় বিরোধী দলের মাঝে একা দাঁড়িয়ে জনস্বার্থবাহী ইস্যুগুলিতে আপনার রণকৌশল কী হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, এটা ঠিক যে এবার বিধানসভায় বামেদের একমাত্র প্রতিনিধি আমিই। ফলে সংসদীয় রীতিনীতি মেনে জনস্বার্থের কথা তুলে ধরার জন্য আমাকে বাড়তি প্রস্তুতি তো নিতেই হবে। আর আপনারা তো বর্তমান তথাকথিত প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা দেখছেনই! মানুষের জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে কথা না বলে তারা শুধু দল ভাঙাভাঙি আর নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। আমার মনে হয়, সামনের দিনে বাংলায় এই দলটার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব বা বিরোধী ভূমিকা থাকবে না।
আগামী দিনে সাধারণ মানুষের হকের লড়াইয়ে যেটুকু করার, আমাদেরই করতে হবে। বিধানসভায় আমাদের ভাই আইএসএফ (ISF)-এর নওসাদ সিদ্দিকী আছেন, আমি আছি— আমরা দুজনে মিলেই মেহনতি মানুষের পক্ষে জান লড়িয়ে দেবো। আর সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, আমাদের শুধু বিধানসভার ভেতরের লড়াই নয়, মাঠ-ঘাটের সেই চিরন্তন রাস্তার লড়াই আরও দশগুণ জোরালো হবে।
প্রশ্ন: রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন? শাসকদলের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা ও বিরোধিতার সীমারেখা ঠিক কোথায় টানবেন?
উত্তর: নতুন সরকারের শুরুটা ভালোই। যেমন কোরবানি নিয়ে তারা নতুন করে কোনো বিতর্কিত আইন আনেনি, ১৯৫০ সালের পুরনো আইনটাকেই বহাল রেখেছে। আসলে একটা নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের নিজস্ব কিছু এজেন্ডা থাকে, তারা তো সেটা করবেই। এখন তো সরকারের সবেমাত্র ‘হানিমুন পিরিয়ড’ চলছে, তাই এখনই ঢালাও সমালোচনা করার পরিপক্ব সময় আসেনি। ধীরে ধীরে সময় এগোলে বোঝা যাবে এই সরকারের আসল ভূমিকা, নীতি এবং কর্মকাণ্ড কী। তখন পরিস্থিতি বুঝে আমরা সেভাবেই ভূমিকা নেবো এবং জোরালো সমালোচনা করব।
আর সহযোগিতার কথা যদি বলেন— সংসদীয় রাজনীতিতে একজন প্রকৃত বিরোধীর ভূমিকা যেমনটা হওয়া দরকার, আমি ঠিক সেটাই করব। সরকার যদি কোনো জনবিরোধী কাজ করে, তবে বুক চিতিয়ে তার গঠনমূলক বিরোধিতা করব; আবার সরকার যদি মানুষের স্বার্থে কোনো ভালো কাজ করে, তবে তাকে অবশ্যই সহযোগিতা করব। শুধু বিরোধিতার খাতিরে অন্ধ বিরোধিতা করা বামপন্থীদের সংস্কৃতি নয়। গঠনমূলক বিরোধিতার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিয়ে সঠিক পথে চালিত করাই আমাদের মূল কাজ।
প্রশ্ন: বামপন্থীদের ‘কোর এজেন্ডাই’ হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান এবং গরিব-মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষা। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে সামনের লড়াইটা কি আরও অনেক বেশি কঠিন হতে চলেছে?
উত্তর: দেখুন, বিজেপি হলো আপাদমস্তক প্রো-কর্পোরেট অর্থাৎ পুঁজিপতিদের দল। তারা দেশজুড়ে রাষ্ট্রের সমস্ত সম্পদ আম্বানি-আদানির মতো বড় বড় কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে। আজ যেভাবে বিভিন্ন রেল স্টেশন বা সরকারি জায়গায় বুলডোজার চালিয়ে গরিব হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তার আসল উদ্দেশ্য হলো আদানি-আম্বানিদের মলের ব্যবসার পথ প্রশস্ত করা। স্টেশনের বাইরে বা ফুটপাতে যদি ছোট ছোট হকাররা সস্তায় জিনিস বিক্রি করেন, তবে কর্পোরেটদের বড় বড় ব্যবসা মার খাবে। তাই বিজেপি বাংলাতেও একই কর্পোরেট কায়দায় সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির ওপর বুলডোজার চালাচ্ছে— এটাই তো ওদের আসল নীতি এবং পুঁজিপতি তোষণের রাজনীতি।
গরিব মানুষের পেটে এভাবে লাথি মারার বিরুদ্ধে কিন্তু আমরাই প্রথম রাস্তায় নেমেছি। তৃণমূল বা অন্য কোনো তথাকথিত বিরোধী দল এই হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজপথে নামেনি। ইতিমধ্যে আমাদের দলের তরুণ কমরেড শতরূপ ঘোষ, সৃজনা ভট্টাচার্যরা ময়দানে নেমে লড়াই করছেন। দিল্লিতে কমরেড বৃন্দা কারাটরা এই বুলডোজার নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই— ওরা যদি ক্ষমতা আর বুলডোজার দিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পেটে লাথি মারতে আসে, আমরা সাধারণ মেহনতি মানুষকে সাথে নিয়ে লাল ঝান্ডা হাতে ওই বুলডোজারের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াব। বুলডোজার যদি চলে, তবে তার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ ও লড়াইও সমান্তরালভাবে চলবে। গরিবের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কারও নেই।
প্রশ্ন: যখন আপনি ডোমকলে এক ঐতিহাসিক জয় পেলেন, তখন সামগ্রিকভাবে গোটা রাজ্যে বামেদের এমন বিপর্যয়কর ফলাফল হলো কেন? নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে এই ফলাফলকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
উত্তর: দেখুন, এখানে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বড় বড় ব্যাখ্যা দেওয়ার কিছু নেই। খুব সহজ এবং সোজা অঙ্ক হলো— আমরা এখনও বাংলার মানুষের সামনে বামপন্থাকে একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য ‘বিকল্প’ (Alternative) হিসেবে পুরোপুরি তুলে ধরতে পারিনি। মানুষ যখন কোনো সরকারকে হটাতে চায়, তখন তারা সামনে একটি নিশ্চিত বিকল্প খোঁজে। আমরা সেখানে খামতি রেখে গেছি। বাকিটা অবশ্যই আমাদের পার্টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করবে। দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব প্রতিটি আসন ধরে ধরে আলোচনা করবে, কোথায় আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল, কোথায় মানুষের কাছে পৌঁছাতে আমাদের খামতি ছিল—সেগুলি খতিয়ে দেখে আগামী দিনে পথ চলার রণকৌশল ঠিক করা হবে।
প্রশ্ন: রাজ্যে মাত্র একটি আসনে জয়— এটাকে কি আপনি বাংলায় বামেদের পুনরুত্থানের সূচনা হিসেবে দেখছেন, নাকি এখনই অতি মাত্রায় আত্মসমালোচনা করার সময় বলে মনে করেন?
উত্তর: বামপন্থী আন্দোলনে আত্মসমালোচনা বা ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার প্রক্রিয়া তো সবসময়ই চালু থাকে, এটা নতুন কিছু নয়। তবে ডোমকলের এই জয়কে আমি খাটো করে দেখতে রাজি নই। ডোমকলের মানুষ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন ও দূরদর্শী। আর সেই কারণেই তাঁরা সমস্ত সমীকরণ উল্টে দিয়ে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও বামপন্থীদের ওপর ভরসা রেখেছেন এবং লাল ঝান্ডাকে জিতিয়েছেন।
আমি মনে করি, ডোমকলের মানুষ অন্তত এই অন্ধকার সময়ে গোটা রাজ্যের সামনে একটি উজ্জ্বল উদাহরণ বা পথপ্রদর্শক (Example) তৈরি করেছে। এই জয় দেখে আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও শিক্ষা ও সাহস পাবেন যে—হ্যাঁ, শত প্রতিকূলতার মাঝেও বামেরা লড়াই করে জিততে পারে। এই বার্তাটা খুব জরুরি ছিল। ডোমকলের এই জ্বলন্ত প্রদীপ দেখেই আগামী দিনে অন্যান্য জেলা ও আসনগুলিতে আমরা আবার ভালো ফল করব এবং ঘুরে দাঁড়াব।
প্রশ্ন: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আপনার মতে সামগ্রিকভাবে বাম রাজনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই মুহূর্তে কী কী? দলের কোথায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন বলে মনে করেন?
উত্তর: বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের বামপন্থী রাজনীতির সামনে প্রধানত দুটি মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক শক্তি। ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে ভাগ করে ভোটব্যাঙ্কের যে রাজনীতি চলছে, তা রুখে দেওয়া আমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর দ্বিতীয়ত হলো, পুঁজিপতিদের এই কর্পোরেট রাজ, যা সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি কেড়ে নিচ্ছে।
এই দুই শক্তিশালী শত্রুকে ওভারকাম বা পরাস্ত করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আর তার একমাত্র উপায় হলো—দলের খোলনলচে বদলে ফেলে আরও বেশি করে গরিব, মেহনতি, দিনমজুর ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছানো। তাঁদের দৈনন্দিন অভাব-অভিযোগ, জল-জমি-জঙ্গলের অধিকারের কথা বলা এবং সেই বুনিয়াদি আন্দোলনগুলিকে আরও বড় আকারে সর্বত্র বিস্তার লাভ করানো। এই শ্রেণী সংগ্রামকে তীব্র করাই আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং আগামী দিনে জয়ের একমাত্র চাবিকাঠি।
প্রশ্ন: একটা হালকা চালের প্রশ্ন করি। মোস্তাফিজুর রহমান কি রেজ্জাক মোল্লার (প্রাক্তন বাম মন্ত্রী) মতো ‘চাষার ছেলে’ হতে চাইছেন? আজকাল আপনার গলায় সর্বত্রই একটা লাল গামছা দেখা যাচ্ছে! এর রহস্য কী?
উত্তর: (হেসে) না না, ব্যাপারটা ঠিক তেমন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। আসলে এই তীব্র গরমে গামছাটা আমার ভীষণ উপকারে আসছে, এটা খুব বাস্তব একটা কারণ। এবারের প্রখর রোদ আর তীব্র দাবদাহের মধ্যে যখন দিন-রাত এক করে ভোটপ্রচার করতে হয়েছে, তখন ঘাম মোছার কাজে এই গামছাটাই সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। একটা সাধারণ রুমালে যে কাজটা হয় না, গামছায় সেই কাজটা খুব ভালো হয়।
আর অন্য দিক থেকে যদি দেখেন—আমার ডোমকল এলাকার অধিকাংশ মানুষই তো চাষী, দিনমজুর ও কৃষক শ্রেণীর মেহনতি মানুষ। তাঁদের নিত্যদিনের ব্যবহারের অতি প্রিয় ও অতি চেনা এই জিনিসটি আমিও যদি আমার কাঁধে বা গলায় ব্যবহার করি, তাতে ক্ষতি কী? এতে মানুষের সাথে সংযোগ আরও বাড়ে।
প্রশ্ন: ডোমকলের সাধারণ মানুষজন কি এখনও তাঁদের ঘরের ছেলে ‘রানা’-কে আগের মতোই চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে বা মাঠে দেখতে পাবে? জনসংযোগ কি একই রকম থাকবে?
উত্তর: আমি আগেও বলেছি, বিধায়ক পদটা আমার কাছে একটা বাড়তি দায়িত্ব মাত্র, অহংকার বা বিলাসিতা নয়। ডোমকলের মানুষ আমাকে যেভাবে চেনে ও জানে, আমি ঠিক তেমনই থাকব। চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের সাথে বসে তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা শোনা বা মাঠে যাওয়া—এগুলির কোনো পরিবর্তন হবে না। জনসংযোগ আগের মতোই নিবিড় থাকবে, কারণ মানুষের থেকে দূরে সরে গেলে আমি আর যাই হই না কেন, বামপন্থী থাকতে পারব না।
প্রশ্ন: আমার শেষ প্রশ্ন—রাজনীতি, লাল ঝান্ডা আর মিছিল-মিটিংয়ের বাইরে ব্যক্তি মোস্তাফিজুর রহমান ঠিক কেমন মানুষ?
উত্তর: (একটু হেসে) দেখুন, নিজের মূল্যায়ন তো কখনো নিজের মুখে করা যায় না। আমি মানুষ হিসেবে কেমন, আমার স্বভাব-চরিত্র কেমন—সেটা আমার চেয়ে ডোমকলের সাধারণ মানুষ অনেক ভালো বলতে পারবেন। তাঁরাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিচারক এবং তাঁদের সেই মূল্যায়নের ওপরই আমার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
প্রশ্ন: বিধানসভা তো জয় করলেন, এবার আগামী দিনে ডোমকল পুরসভা নির্বাচন নিয়ে আপনার বা আপনার দলের রণকৌশল কী হতে চলেছে?
উত্তর: পুরসভা নির্বাচনের রণকৌশল সম্পূর্ণ দলীয় স্তরে বা সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা তো আমার একার কোনো ব্যক্তিগত রণকৌশল নয়। দলের সর্বস্তরের কর্মী, স্থানীয় নেতৃত্ব ও জেলা নেতৃত্বকে সাথে নিয়ে একযোগে এই লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি হবে।
তবে এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আমি ডোমকলের আপামর জনতাকে একটি বিশেষ আহ্বান জানাতে চাই—আপনারা যেভাবে বিশ্বাস রেখে বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের আশীর্বাদ করেছেন, ঠিক একইভাবে আগামী পুরসভা নির্বাচনেও পুরবোর্ডটা আমাদের লাল ঝান্ডার হাতে দিন। বিগত বাম জমানায় কমরেড আনিসুর রহমান যেভাবে ডোমকলের বুনিয়াদি উন্নয়ন করেছিলেন, সেই ধারা আমরা আবার ফিরিয়ে আনব। ভরসা রাখুন, বামেরা যদি ডোমকল পুরসভা পায়, তবে আপনারা একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ পুরসভা উপহার পাবেন। সরকারি কোনো প্রকল্পের সুবিধা বা ঘর পেতে সাধারণ মানুষকে আর কোনো ‘কাটমানি’ দিতে হবে না। পুরসভার যেটুকুই কাজ হবে, তা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এবং তাঁদের স্বার্থেই করা হবে।
