ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ওমান উপকূলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই, নিহত তিন ভারতীয় নাবিকের পরিচয় সামনে আসতে শুরু করেছে। সরকারি সূত্র এবং পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে একজন উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার ৩৫ বছর বয়সী যুবক শিবানন্দ চৌরাসিয়া। ওমান উপকূলের সেই অভিশপ্ত ট্যাঙ্কারে তিনি ‘ইঞ্জিন ফিটার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১০ জুন ওই বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা চলার পর থেকে যে তিনজন ভারতীয় ক্রু সদস্য নিখোঁজ ছিলেন, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাঁদের নিথর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক খবর উত্তরপ্রদেশের সুরাউলি গ্রামে পৌঁছাতেই গোটা এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত শিবানন্দের বৃদ্ধ পিতা রামজি চৌরাসিয়া সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে চোখের জলে জানান, মাত্র আট মাস আগে শিবানন্দ জাহাজের চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য মুম্বাই পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানে একটি বিদেশি শিপিং সংস্থায় চাকরি পান তিনি। স্মৃতিচারণ করে শোকস্তব্ধ বাবা বলেন, “গত পরশু রাতেও (হামলার আগের রাতে) ছেলের সাথে আমাদের ফোনে কথা হয়েছিল। ও আমাদের বলেছিল যে ওখানে সব ঠিকঠাক আছে, ভয়ের কিছু নেই। আর আজ শুনছি আমার ছেলে আর নেই।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিবানন্দের ভাই বর্তমানে দুবাইতে কর্মরত। তিনিই প্রথম ফোন করে ওমান উপকূলে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর বাড়িতে জানান। খবর পাওয়ার পর দেওরিয়া জেলা পুলিশের আধিকারিকরা সুরাউলি গ্রামে শিবানন্দের বাসভবনে যান এবং শোকার্ত পরিবারের সাথে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। মৃত্যুকালে শিবানন্দ তাঁর স্ত্রী, এক পুত্র এবং এক কন্যা সন্তানকে রেখে গেলেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে, গত চার দিনে ওমান উপকূলে ভারতীয় ক্রু সদস্যসহ তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী আক্রমণ চালিয়েছে। এই প্রথম ভারত সরকার প্রকাশ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর দ্বারা ভারতীয় নাবিকবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে নিশানা করার কথা জনসমক্ষে আনল। ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে ওমান ও ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ উদ্ধারকারী দল জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও, শিবানন্দসহ ৩ জনের এই অকাল মৃত্যুতে আমেরিকার বিরুদ্ধে সরব নয়াদিল্লি। ভারত ইতিমধ্যেই এই ‘অগ্রহণযোগ্য’ হামলার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ নথিভুক্ত করেছে এবং নিহতদের নশ্বর দেহাবশেষ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
