TOP NEWS

২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর, নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিলেন সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা

(Image Credit: X/@narendramodi)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের স্বাধীনতার শতবর্ষ অর্থাৎ ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সংকল্প নিয়ে নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হলো নীতি আয়োগের একাদশ গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠক। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবারের বৈঠকের মূল ভাবনাবিষয় বা থিম ছিল—‘বিকশিত ভারত@২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন’। নীতি আয়োগের ইতিহাসে এই প্রথমবার দেশের ২৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ও প্রশাসকরা সশরীরে এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত সকল মুখ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাফল্যের সাথে ১২ বছর পূর্ণ করার জন্য অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, এই সভায় দেশের আত্মনির্ভরতা, আন্তর্জাতিক স্তরের সেরা কর্মপদ্ধতি গ্রহণ এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করার মতো একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের সাথে রাজ্যগুলি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ না করলে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ অসম্ভব। এই লক্ষ্যকে কেবল দিল্লির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি রাজ্য, জেলা, ব্লক এবং গ্রামে একটি যৌথ সংকল্পে পরিণত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যখন বিশ্বের বহু বড় অর্থনীতি অনিশ্চয়তা ও মন্দার মুখোমুখি, তখন ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গল্প সারা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের তরুণ সমাজই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০ কোটি নাগরিকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই যুবশক্তিকে দেশের ‘উন্নয়ন লভ্যাংশ’-এ রূপান্তরিত করতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেন তিনি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলির সুবিধা যাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং যুবসমাজ পায়, তা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দেশের ‘লাখপতি দিদি’-র সংখ্যা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬ কোটিতে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ‘এক জেলা এক পণ্য’ উদ্যোগকে সফল করতে রাজ্যগুলিকে রপ্তানিমুখী কৌশল তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উদীয়মান ক্ষেত্র হিসেবে ‘প্রতিরক্ষা উৎপাদন’-এ ভারতের তৈরি হওয়া নতুন পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যগুলিকে নিজস্ব নীতি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। সমাজ থেকে মাদকাসক্তি দূর করতে এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার জালিয়াতি রুখতে রাজ্যগুলিকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এল নিনো-র প্রভাব এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী সমস্ত রাজ্যকে জল সংরক্ষণে জোর দেওয়ার এবং প্রাকৃতিক ও জৈব চাষের প্রসার ঘটানোর আপিল করেন। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, চলতি খরিফ মরশুমে কৃষকদের দ্বারা ১১ লক্ষ টন জৈব সার ক্রয় করা টেকসই কৃষির প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান বিশ্বাসের প্রমাণ।

শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সহজ ব্যবসা নীতি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-কে ভয়ের কারণ না ভেবে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ‘অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্ট’ বা আকাঙ্ক্ষিত জেলা মডেলের আদলে দেশের ১০০টি কৃষিপ্রধান জেলাকে চিহ্নিত করে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক লক্ষ্য পূরণে আগামী ১০০ দিন এবং পরবর্তী ৫ বছরের জন্য নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও নজরদারি কাঠামো তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সমস্ত মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী আস্থা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং উন্নয়নের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভারত নির্ধারিত সময়ের আগেই ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’-এর লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!