ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মন্দির দর্শন করে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলা। রবিবার বিকেলে সোলাপুরের মালশিরাস তহসিলের তান্দুলওয়াদি গ্রামের কাছে একটি যাত্রীবাহী পিক-আপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গভীর কুয়োতে পড়ে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় চারজন মহিলা এবং চারজন শিশুসহ মোট ৮ জনের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।
সোলাপুরের পুলিশ সুপার (SP) অতুল কুলকার্নি জানিয়েছেন, রবিবার বিকেল আনুমানিক ৫টা নাগাদ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পন্ধরপুরের বাসিন্দা ওই ১৫ জন যাত্রী মহসোয়াদের একটি মন্দির দর্শন করে পিক-আপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “বিকেল ৫টা নাগাদ তান্দুলওয়াদি গ্রামের কাছে চালক আচমকা গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে পিক-আপ ভ্যানটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা একটি গভীর কুয়োর মধ্যে উল্টে যায়। গাড়িতে থাকা ১৫ জনের মধ্যে ৮ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং বাকি ৭ জন গুরুতর আহত হন।”
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সোলাপুরের জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপার স্বয়ং উদ্ধারকারী দল নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কুয়ো থেকে গাড়িটি টেনে তোলার কাজ শুরু হয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্যে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। এই ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক” বলে বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি তাঁর আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সাথে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আহত ৭ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।
এই ঘটনার পর পুরো পন্ধরপুর এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। চালকের অসতর্কতা নাকি গাড়ির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সোলাপুর জেলা পুলিশ।
