ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এবং স্বস্তির খবর। সমস্ত জল্পনা ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ঐতিহাসিক চুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন। একই সাথে তিনি পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়ার এবং মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ একটি পোস্টে এই মেগা ঘোষণাটি করেন। ট্রাম্প লেখেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সাথে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ। সবাইকে অভিনন্দন! আমি এতদ্বারা হরমুজ প্রণালী কোনো টোল বা শুল্ক ছাড়াই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার নির্দেশ দিচ্ছি। এর পাশাপাশি, ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের সম্পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি।” আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে আরও বলেন, “বিশ্বের সমস্ত জাহাজ, এবার তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলকে স্বাভাবিক নিয়মে বইতে দাও!” তবে এই চুক্তির শর্তাবলী বা তা বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি পোস্টে দেননি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই সোমবার (১৫ জুন) সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির কথা নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক আলোচনার পর এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিবিড় আলোচনার পর আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি অর্জিত হয়েছে। উভয় পক্ষই সমস্ত ফ্রন্টে—যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত—তাত্ক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে সমস্ত সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা করেছে। শাহবাজ শরিফ জানান, আগামী ১৯ জুন (শুক্রবার) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তির অফিসিয়াল স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত তিন মাস ধরে চলা সংঘাত ও মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হবে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি কমাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। সুইজারল্যান্ডের আসন্ন স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।
