ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: জয়পুরে আন্দোলন চলাকালীন নিজের ওপর হওয়া হামলার জন্য সরাসরি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর দিকে আঙুল তুললেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। মঙ্গলবার সকালে নাগপুর বিমানবন্দরে নেমে তিনি অভিযোগ করেন, পড়ুয়াদের মূল সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে এবং ভিন্নমত দমন করতেই আরএসএস-এর কিছু লোক তাঁর ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।
সোমবার জয়পুরে একটি বিক্ষোভ প্রদর্শন চলাকালীন এক নজিরবিহীন ঘটনার সম্মুখীন হন অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলনস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সমর্থকেরা যখন দিপকে-কে নিজেদের কাঁধে তুলে স্লোগান দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় আচমকা দুই যুবক ভিড়ের মধ্য থেকে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে পর পর কয়েকটি চড় মারে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে।
মঙ্গলবার নাগপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে জানতে চাওয়া হলে দিপকে বলেন, “এর পেছনে আরএসএস-এর কিছু লোক জড়িত ছিল এবং এতে নতুন কিছু নেই। যখনই কেউ সরকার বা তাদের মতাদর্শের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখনই তারা এই ধরণের পথ অবলম্বন করে। মূল ইস্যু থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে এবং ছাত্রদের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতেই এই কাপুরুষোচিত হামলা।”
রাজনৈতিক মহলে অভিজিৎ দিপকের সাথে আরএসএস-এর গোপন আঁতাত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে তাঁর পূর্ববর্তী সাক্ষাতের যে গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছিল, সে বিষয়েও মুখ খোলেন তিনি। অত্যন্ত কটাক্ষের সুরে সিজেপি প্রধান বলেন, “আমার সাথে যদি তাদের ভালো সম্পর্কই থাকবে, তবে কি সেই কারণেই তারা গতকাল আমার ওপর এভাবে হামলা চালাল?” তিনি স্পষ্ট করে দেন, কোনো ধরণের আক্রমণই তাঁদের আন্দোলনকে দমাতে পারবে না। দিপকে বলেন, “আপনারা আমাদের ওপর যত খুশি আক্রমণ করতে পারেন, কিন্তু আমরা আমাদের মূল দাবি থেকে এক চুলও নড়ব না। আমরা মহাত্মা গান্ধী এবং ড. বি আর আম্বেদকরের দেখানো অহিংস ও গণতান্ত্রিক পথে আমাদের এই ‘সত্যাগ্রহ’ শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাব। দেশের ১ কোটিরও বেশি পুড়ুয়া আজ অবিচারের শিকার। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এর নৈতিক দায় নিতেই হবে এবং আমরা তাঁর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত লড়ে যাব।”
এদিকে মঙ্গলবার বিকেল ৪টে নাগাদ নাগপুরের সংবিধান চত্বরে আয়োজিত এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে শামিল হওয়ার জন্য নাগপুরের সমস্ত সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে ছাত্র ও যুবসমাজকে আহ্বান জানিয়েছেন দিপকে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিজেপি-র এই প্রতিবাদ সভাকে কেন্দ্র করে নাগপুর জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এই আন্দোলনে ২,০০০-এরও বেশি তরুণ-তরুণী অংশ নিতে পারেন। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংবিধান চত্বরসহ নাগপুরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
