ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ কে কেন্দ্র করে দেশের ছাত্র সমাজের ওপর চেপে বসা পাহাড়প্রমাণ মানসিক চাপ ও অবসাদের আরও এক করুণ চিত্র সামনে এল উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। পরীক্ষায় সফল হতে না পারার তীব্র হতাশা থেকে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর আগে নিজের বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত আবেগঘন সুইসাইড নোট রেখে গেছেন সে, যেখানে লেখা ছিল— “মাম্মি-পাপা, আই লাভ ইউ”।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেরাদুনের প্যাটেল নগর থানা এলাকার অন্তর্গত চন্দ্রমণি কলোনির একটি বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। সোমবার তরুণীকে তাঁর নিজের ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ওড়নার সাহায্যে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে প্যাটেল নগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ঘর থেকে ওই তরুণীর লেখা সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করেছে। দেরাদুনের সদর সার্কেল অফিসার অঙ্কিত কান্দারি এই সুইসাইড নোট উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্ত পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর আগের কয়েকটি প্রচেষ্টাতেও তিনি পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পরও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না মেলায় তিনি তীব্র মানসিক চাপ, হতাশা ও অবসাদে ভুগছিলেন।
দেরাদুন পুলিশ জানিয়েছে, সুইসাইড নোটটি এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথম দৃষ্টে বিষয়টি নিট পরীক্ষার মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে প্রশাসন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বা সামাজিক চাপ ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে। দেশজুড়ে একের পর এক নিট পরীক্ষার্থীর এই ধরণের চরম পথ বেছে নেওয়ার ঘটনা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কঠিন বাস্তবতাকে আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
