TOP NEWS

“বিরোধীদের কিনতে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো স্কিম দিচ্ছে বিজেপি”: ‘ঘোড়া কেনাবেচা’ নিয়ে শাহকে নিশানা কংগ্রেসের

ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে শিবসেনা (UBT) এবং পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের জল্পনার মাঝেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন আক্রমণ শানাল কংগ্রেস। বুধবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিপুল আর্থিক প্রলোভন এবং বিভিন্ন ‘টোপ’ দিয়ে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের শিবিরে টানছে বিজেপি। যারা সম্পূর্ণ বিজেপি-বিরোধী হাওয়া বা এজেন্ডা নিয়ে নির্বাচনে জিতে এসেছিলেন, এখন তাঁদেরকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে হাত শিবির।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে লিখেছেন, বছরের শুরুতে সংসদে ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদের ওপর এই সুপরিকল্পিত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজেপির এই দলবদলের রণকৌশলকে তীব্র কটাক্ষ করে রমেশ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে এবং সুপরিকল্পিত উপায়ে এই দলবদলের অভিযান চালাচ্ছেন। মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির মতো তাঁর কাছেও বিভিন্ন বিরোধী নেতাদের ‘ব্যক্তিগত প্রয়োজন’ অনুযায়ী আলাদা আলাদা লোভনীয় স্কিম ও প্রোডাক্ট রয়েছে! যারা মাত্র দু’বছর আগে তীব্র বিজেপি-বিরোধী মনোভাব নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাঁরাও এখন এই বিপুল প্রলোভনের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। তাঁদের যে ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো।”

জয়রাম রমেশের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (UBT)-র মধ্যে বড়সড় বিদ্রোহের গুঞ্জন তীব্র হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, উদ্ধব শিবিরের বেশ কয়েকজন লোকসভা সাংসদ দল ছাড়ার কথা ভাবছেন। এই প্রসঙ্গে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত গত মঙ্গলবার রাতে ‘এক্স’-এ একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “আপনা সপনা মানি… মানি! আমাদের কাছে খবর রয়েছে, মহারাষ্ট্রের সাংসদদের কিনতে আজ রাতেই অগ্রিম বা অ্যাডভান্স হিসেবে ১৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং ন্যাক্কারজনক!” এই উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝেই সঞ্জয় রাউত জরুরি ভিত্তিতে দিল্লি সফরে গিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, উদ্ধব শিবিরের সাংসদেরা যাতে দল ভেঙে বেরিয়ে সংসদে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি না পেতে পারেন, তা আটকাতে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও এই দলবদলের হাওয়া এসে লেগেছে। গত রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিক্ষুব্ধ লোকসভা সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার সাথে দেখা করে ত্রিপুরার একটি নিবন্ধিত কিন্তু অননুমোদিত রাজনৈতিক দল ‘এনসিপিআই’ (NCPI)-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী সোমবার দাবি করেছেন, তাঁরা দল ছেড়ে যাননি, বরং দলটিকে “সংশোধন” করার চেষ্টা করছেন এবং আগামী দিনে তৃণমূলের মূল নির্বাচনী প্রতীক (ঘাসফুল) নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আইনি লড়াই লড়বেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এই দলবদলকে দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ত্রিপুরা ভিত্তিক ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দল NCPI-কে সামনে রেখে আসলে নেপথ্য থেকে এই পুরো দলবদলের চিত্রনাট্য পরিচালনা করছে বিজেপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!