TOP NEWS

হাসপাতালের ওষুধ ও এক্স-রে মেশিন কেনাকাটায় বিপুল কারচুপি: দিল্লির স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারির জাল কতদূর? তদন্তে এসিবি

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির সরকারি হাসপাতালগুলির জন্য ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কেনাকাটায় নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে আনল অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ (ACB)। এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় এবার স্বাস্থ্য দপ্তরের আরও দুই প্রাক্তন শীর্ষকর্তাকে গ্রেপ্তার করে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠাল আদালত। তদন্তকারীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি এই কেনাকাটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বেসরকারি ব্যক্তি ও সরবরাহকারীকেও খুব শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হতে পারে।

ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল (DGHS) ডক্টর বাৎসল্য আগরওয়াল এবং সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট এজেন্সি (CPA)-র প্রাক্তন ডেপুটি কন্ট্রোলার অফ অ্যাকাউন্টস নীরজ চোপড়া। সরকারি কেনাকাটার নিয়মবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সিপিএ-র প্রাক্তন হেড অফ অফিস ডক্টর বিনোদ কুমার রাঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছিল এসিবি। এই নিয়ে এই মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল তিনে।

কীভাবে চলত কারচুপি?

দুর্নীতির গভীরতা কতটা, তা এখনো চূড়ান্ত করতে না পারলেও এসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬৫০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার কেনাকাটা বর্তমানে তাদের কড়া নজরে রয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন ঠিক কী পরিমাণ সামগ্রী আসলে হাসপাতালগুলিতে সরবরাহ করা হয়েছিল, জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল কিনা এবং এর মাধ্যমে কারা অবৈধভাবে লাভবান হয়েছে। দিল্লির ভিজিল্যান্স ডিরেক্টরেটের একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু সরবরাহকারী সংস্থাকে অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দিতে কেনাকাটার সমস্ত নিয়মবিধি এবং টেন্ডারের শর্তাবলী ম্যানিপুলেট বা জালিয়াতি করা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, টেন্ডার বা দরপত্রের শর্তগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে অন্য কোনো সৎ প্রতিযোগী সংস্থা অংশই নিতে না পারে। এর ফলে বাজারদরের চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে অ্যানাস্থেশিয়া ওয়ার্কস্টেশন, পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন ও ওষুধের বরাত দেওয়া হয় নির্দিষ্ট কিছু সংস্থাকে।

এই গোটা চক্রটির নেপথ্যে একজন প্রভাবশালী ‘মিডলম্যান’ বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে এসিবি। সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি সরকারি আধিকারিক এবং বেসরকারি সরবরাহকারীদের মধ্যে লিয়াজোঁ বা সেতু হিসেবে কাজ করতেন। তিনি একাধিক বেনামী সংস্থার আড়ালে থেকে প্রকিউরমেন্ট বা কেনাকাটার সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত করেছিলেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, যে সমস্ত সংস্থা এই কেনাকাটার বরাত পেয়েছিল, সেগুলি আসলে কোনো ভুঁইফোঁড় বা ‘শেল কোম্পানি’ কিনা, তা নিশ্চিত করতে ‘রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ’-সহ একাধিক সরকারি সংস্থার কাছ থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করছে এসিবি। আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং ঘুষের টাকা কোথায় কোথায় গেছে, তা ধরতেই এই পদক্ষেপ।

এসিবি-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “তদন্তটি এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। প্রথম দর্শনেই কিছু জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া দেখানোর প্রমাণ মিলেছে, তবে নথিপত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ স্ক্রুটিনি শেষ হলেই প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হবে। এই চক্রান্তের পেছনে বড় কোনো অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক কাজ করছে কিনা, তা জানতে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট এজেন্সির প্রতিটি স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” নয়া তথ্যপ্রমাণ সামনে এলে আগামী দিনে আরও বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির নাম এই দুর্নীতি মামলায় যুক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!