আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চীনের পাল্টা ‘ব্লকিং’ ব্যবস্থা: তুঙ্গে বাণিজ্য সংঘাত
ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল চীন। শনিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রক (MOC) একটি আনুষ্ঠানিক ‘ব্লকিং মেজার’ বা নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা জারি করেছে। এর মাধ্যমে চীনের অভ্যন্তরীণ কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে আমেরিকার চাপানো নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে আইনিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিনহুয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের এই পদক্ষেপ মূলত পাঁচটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল সংস্থাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে। ইরানের সাথে তেল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি ওয়াশিংটন এই কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সংস্থাগুলো হলো- হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনিং কোং লিমিটেড, শানডং শৌগুয়াং লুচিং পেট্রোকেমিক্যাল কোং লিমিটেড, শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ কোং লিমিটেড, হেপেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ কোং লিমিটেড ও শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল কোং লিমিটেড।
বেজিং এবারই প্রথম তাদের বিশেষ আইনি হাতিয়ার “ব্লকিং স্ট্যাটিউট” (Blocking Statute) আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করল। এটি এমন একটি আইনি কাঠামো যা অন্য দেশের আইনের অবৈধ প্রভাবকে অকেজো করে দেয়। এর মাধ্যমে চীন কেবল কূটনৈতিক প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি আইনি পাল্টা ব্যবস্থার পথে হাঁটল।
গত মাসে মার্কিন অর্থ মন্ত্রকের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ অফিস (OFAC) সতর্ক করেছিল, চীনের তথাকথিত “টিপট” (Teapot) বা স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলো ২০২৬ সালেও ইরানের অপরিশোধিত তেল আমদানি ও প্রক্রিয়াকরণে বড় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে শানডং প্রদেশভিত্তিক এই শোধনাগারগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তেল কিনে ইরানের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে বলে দাবি আমেরিকার। এর ফলে এই কোম্পানিগুলোকে ‘স্পেশালি ডেজিশনেটেড ন্যাশনালস’ (SDN) তালিকায় রাখা হয়েছে, যা তাদের সম্পদ ফ্রিজ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে বাধা তৈরি করে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘একতরফা’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আমেরিকার এই পদক্ষেপ চীনা কোম্পানিগুলোর সাথে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর স্বাভাবিক অর্থনৈতিক লেনদেনকে ব্যাহত করছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষা করতেই এই ‘ব্লকিং অর্ডার’ জারি করা হয়েছে। চীন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতিসংঘের অনুমোদনহীন এবং আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত যেকোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞার তারা ঘোর বিরোধী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ২০২৬ সালে এসে এক আইনি যুদ্ধে রূপ নিল। আমেরিকা যখন চীনের ‘টিপট’ শোধনাগারগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে, তখন চীন পাল্টা আইনি ঢাল তৈরি করে নিজ দেশের কোম্পানিগুলোকে রক্ষার চেষ্টা করছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশেষ করে তেলের বাজারে এক বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
