ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে হিমাচল প্রদেশ। তুষারধসের আশঙ্কায় রাজ্যের ১২৫০টিরও বেশি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও তুষারশুভ্র প্রকৃতির আনন্দ নিতে পর্যটকদের ঢল নামছে পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।
রাজ্যের গণপূর্ত মন্ত্রী বিক্রমাদিত্য সিং জানিয়েছেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে সরকার ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতায়’ কাজ করছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, “দুই দিন আগে পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ১২৫০টিরও বেশি রাস্তা বন্ধ ছিল। আমরা সেগুলো পুনরায় খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, হিমাচল জুড়ে বিভিন্ন স্থানে স্নো-ব্লোয়ার এবং জেসিবি মেশিন মোতায়েন করা হয়েছে।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, তুষারপাত সাধারণ মানুষের সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করলেও এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। তিনি বলেন, “রাজ্যের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি ও তুষারপাতের অপেক্ষায় ছিলেন। এই তুষারপাত আমাদের কৃষকদের জন্য খুশির খবর। আমি তাঁদের অভিনন্দন জানাই এবং রাজ্যের দেবদেবীদের ধন্যবাদ জানাই, কারণ এটি পাহাড়ি অঞ্চলের আসন্ন ফসলের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।” আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার প্রসঙ্গে সিং জানান যে, জেলা প্রশাসন, এসপি এবং ডিসিদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য বর্তমানে প্রায় ৩৫০০টি মেশিন মোতায়েন রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা করা হবে। তুষারপাত জলস্তর বৃদ্ধি ও মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সাহায্য করবে, যা ফলের বাগানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
পর্যটকদের স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “পর্যটকরা আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। হিমাচল ‘দেবভূমি’ এবং আমরা ‘অতিথি দেব ভব’ নীতিতে বিশ্বাস করি। তবে পর্যটকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা দায়িত্বশীলভাবে ভ্রমণ করুন যাতে রাজ্যের সংস্কৃতি বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে।”
এদিকে, রাস্তার বেহাল দশা এবং আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা সত্ত্বেও পর্যটকদের উদ্দীপনায় ভাঁটা পড়েনি। দিল্লি থেকে আসা পর্যটক দানিয়াল জানান, ট্রাফিক জ্যাম এবং তুষারপাতের কারণে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁদের। আবহাওয়া দপ্তরের দুই দিনের সতর্কবার্তার কারণে তাঁরা এখন বিভ্রান্ত যে সফর সংক্ষিপ্ত করবেন নাকি বাড়িয়ে দেবেন।
তৈয়বা নামে অন্য এক পর্যটক তাঁর অভিজ্ঞতায় বলেন, “তুষারপাত উপভোগ করলেও গতকাল আমাদের বেশ কষ্ট হয়েছে। সকালে এমনকি পানীয় জল বা চা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল। রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।” আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিন প্রতিকূল পরিস্থিতি বজায় থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
