TOP NEWS

“ইতিহাস থেকে মুঘলদের মুছে ফেলা অর্থহীন”: পাঠ্যবই পরিবর্তন নিয়ে গর্জে উঠলেন রোমিলা থাপার

(Eminent Indian historian Romila Thapar. || File Photo)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: স্কুল পাঠ্যবই থেকে মুঘলসহ বিভিন্ন রাজবংশের ইতিহাস বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অর্থহীন’ বা ‘বাজে কথা’ (Nonsense) বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) কেরালা সাহিত্য উৎসবের (KLF) নবম আসরে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তীব্র সমালোচনা করেন। রোমিলা থাপার বলেন, ইতিহাস হলো মানুষ, সংস্কৃতি এবং চিন্তাচেতনার বিবর্তনের একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। পাঠ্যসূচি থেকে কোনো নির্দিষ্ট কালখণ্ড বা রাজবংশকে বাদ দেওয়া এই ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করে। তিনি বলেন, “বর্তমানে ইতিহাসের বড় একটি অংশ সিলেবাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে বা আমাদের বলা হচ্ছে এগুলো পড়ার প্রয়োজন নেই—এটি সম্পূর্ণ অর্থহীন। ইতিহাস হলো মানুষের আচরণের বিবর্তন। ‘মুঘলদের বের করে দিলাম’ বা ‘অমুক রাজবংশকে বাদ দিলাম’ বললেই এই ধারাবাহিকতা ভেঙে যায় না, বরং তা ইতিহাসকে খণ্ডিত ও অর্থহীন করে তোলে।”

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এনসিইআরটি (NCERT) সপ্তম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সেখান থেকে দিল্লি সুলতানি এবং মুঘল সাম্রাজ্যের অধ্যায়গুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে মৌর্য, শুঙ্গ এবং সাতবাহনের মতো প্রাচীন ভারতীয় রাজবংশ এবং বিভিন্ন ধর্মের পবিত্র স্থান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপেরই তীব্র বিরোধিতা করেছেন থাপার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘জনপ্রিয় ইতিহাস’ (Popular History) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই ইতিহাসবিদ। তিনি বলেন, বর্তমানে পেশাদার ইতিহাসবিদদের গবেষণা এবং সাধারণ মতামতের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি মানুষকে পরামর্শ দেন, কোনো ঐতিহাসিক তথ্য গ্রহণের আগে তা পেশাদার কোনো সূত্র থেকে আসছে কি না, তা যাচাই করে নিতে।

আলোচনায় উঠে আসে নারী অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের প্রসঙ্গও। রোমিলা থাপার বলেন, কোনো সমাজে একজন ‘স্বায়ত্তশাসিত’ বা স্বাধীনচেতা নারী অত্যন্ত অপরিহার্য। তিনি বলেন, “আমি সব সময় সরাসরি নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিহাস না লিখলেও, নিজের লেখায় নারীবাদী অন্তর্দৃষ্টি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। স্বাধীনভাবে চিন্তা করা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা বজায় রাখাই একজন প্রকৃত নারীবাদীর পরিচয়।”

কেরালা সাহিত্য উৎসবের (KLF) এবারের আসরে রোমিলা থাপার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নোবেলজয়ী আব্দুল রাজাক গুনাহ ও অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস, লেখিকা কিরণ দেশাই, জ্ঞানপীঠ জয়ী প্রতিভা রায় এবং উইকিপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলসসহ ৪০০-র বেশি বক্তা। আজ এই উৎসবের সমাপ্তি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!