নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ‘গুরুতর কার্যগত ত্রুটি’ ও ‘অন্যায়ভাবে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া’র অভিযোগ তুলে আবারও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও কমিশনকে চিঠি লিখে এসআইআর-এর নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংশোধন শুনানির সময় বহু ভোটার যোগ্যতার প্রমাণপত্র জমা দিলেও সেগুলোর কোনো গ্রহণরসিদ (প্রাপ্তি স্বীকার) দেওয়া হচ্ছে না। ফলে নথি “রেকর্ডে নেই” বলে দেখিয়ে পরবর্তীতে অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রাপ্য রসিদের অভাব নাগরিকদের অসহায় অবস্থায় ফেলছে এবং কেবলমাত্র কারিগরি অজুহাতে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, সংবিধানসম্মত অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে সাধারণ ভোটারদের।
চিঠিতে দ্বিতীয় অভিযোগ হিসাবে তিনি বলেন, ২০০২ সালের শেষ বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কোনো ডিজিটাল ডেটাবেস না থাকায় সেই সময়ের হাতে লেখা ভোটার তালিকা স্ক্যান করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মাধ্যমে ইংরেজিতে রূপান্তর করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় নাম, বয়স, লিঙ্গ, অভিভাবকের নামসহ বহু তথ্য ভুল হয়ে যায়। এর ফলে বহু প্রকৃত ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা তথ্যবিভ্রান্তির আওতায় ফেলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গত ২৩ বছরে বহু ভোটার ফর্ম-৮ সহ সরকারি নথি জমা দিয়ে যথাযথ শুনানির মাধ্যমে সংশোধন করিয়েছেন এবং তা বর্তমান ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এখন কমিশন নিজস্ব প্রক্রিয়া অস্বীকার করে আবারও সেই প্রমাণ দাখিলের চাপ দিচ্ছে—যা তিনি ‘ইচ্ছাধীন ও সংবিধান-বিরুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রক্রিয়া কেন আবার ২০০২-এ ফিরে যাচ্ছে? তাহলে কি মাঝের দুই দশকের সব সংশোধন বেআইনি ছিল?”
চিঠিতে আরও বলা হয়, ক্ষুদ্র বানানভেদ—যেমন ‘Kr’ ও ‘Kumar’ অথবা ‘Shaik’ ও ‘Sk’—বা বয়সের ক্ষুদ্র পার্থক্যের মতো বিষয় টেবিল-টপ যাচাইয়ে নিষ্পত্তি সম্ভব হলেও সিস্টেম বাধ্যতামূলকভাবে শুনানির নোটিশ জারি করছে। এমনকি ERO/AERO সন্তুষ্ট হয়ে নথি DEO-র কাছে পাঠানোর পরও তা আবার আগের স্তরে ফেরত পাঠিয়ে নোটিশ দেওয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কমিশন নিজেই তার ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এর নির্দেশ থেকে সরে এসেছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র খসড়া তালিকা প্রকাশের পর যাঁদের ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি, তাঁদের নোটিশ দিতে হবে। কিন্তু এখন যাঁদের মিল পাওয়া গিয়েছে, এমন ভোটারদেরও নোটিশ দেওয়া হচ্ছে—যা বিভ্রান্তি, অসন্তোষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে।
চিঠির শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসব কার্যক্রম নাগরিকদের হয়রানি ও ভোটাধিকার হরণের পাশাপাশি প্রশাসনকেও অযথা চাপের মুখে ফেলছে। তিনি কমিশনের তৎপর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
