ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: লোকসভায় বাজেট অধিবেশন চলাকালীন ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মোদী সরকারকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার সংসদে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সরকার কার্যত “দেশ বিক্রি” করে দিয়েছে এবং এটি একটি “পাইকারি আত্মসমর্পণ” (Wholesale Surrender)।
“গলায় ফাঁস লাগিয়ে রেখেছে আমেরিকা”
প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম.এম. নরভানের অপ্রকাশিত বই নিয়ে আলোচনার সুযোগ না পেয়ে রাহুল গান্ধী এদিন আক্রমণের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেন ভারত-মার্কিন বাণিজ্য কাঠামোর দিকে। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী, এমনকি নরেন্দ্র মোদীও নিজের ইচ্ছায় এমন চুক্তিতে সায় দেবেন। নিশ্চয়ই ওঁর ওপর কোনো প্রবল চাপ (Chokehold) আছে। আমেরিকা ওঁর গলার নলি চেপে ধরেছে, আর সেই কারণেই তিনি ভারতকে বিক্রি করে দিচ্ছেন।”
রাহুলের অভিযোগ, এই চুক্তির ফলে ভারতের কৃষকদের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে, বস্ত্র শিল্প ধ্বংসের মুখে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা ভারতকে বিক্রি করতে লজ্জা পাচ্ছেন না? আপনারা আমাদের মা— ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছেন?”
এপস্টাইন ফাইলস ও হরদীপ পুরী বিতর্ক
বক্তৃতার এক পর্যায়ে রাহুল গান্ধী বিতর্কিত মার্কিন ব্যবসায়ী জেফ্রি এপস্টাইনের নথিপত্রের (Epstein Files) প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং শিল্পপতি অনিল আম্বানির নাম উল্লেখ করেন। রাহুল দাবি করেন, আমেরিকায় বিজেপির যে “আর্থিক কাঠামো” নিয়ে তদন্ত চলছে, তা আড়াল করতেই এই আত্মসমর্পণমূলক বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে।
বিজেপির জবাব
রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং “মিথ্যাচার” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। মন্ত্রী বলেন, “ওঁর অভ্যাসই হলো ভিত্তিহীন অভিযোগ করা এবং মিথ্যা বলা।” পুরী স্পষ্ট করেন, তিনি এপস্টাইনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত কারণে নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থার (IPI) প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে মাত্র কয়েকবার পেশাগতভাবে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তাঁর দাবি, এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর মাত্র ৩-৪ বার দেখা হয়েছে এবং একটি মাত্র ইমেল বিনিময় হয়েছে। এই সাক্ষাৎগুলো হয়েছিল মন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে, যখন তিনি জাতিসংঘে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই সাক্ষাতের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। রাহুলের আচরণকে “ভাঁড়ামো” (Buffoonery) বলে কটাক্ষ করে পুরী বলেন, তথ্য না জেনে একজন দায়িত্বশীল নেতার এমন মন্তব্য করা দুর্ভাগ্যজনক।
