TOP NEWS

‘আরাবল্লী পর্বতমালা কাউকে ছুঁতেও দেব না’: হরিয়ানার সাফারি প্রকল্প নিয়ে কঠোর অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল আরাবল্লী পর্বতমালা রক্ষায় ফের কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে আরাবল্লী পর্বতমালা “কাউকেও ছুঁতে দেওয়া হবে না”। হরিয়ানা সরকারের প্রস্তাবিত উচ্চাভিলাষী ‘আরাবল্লী জু সাফারি’ (Aravalli Zoo Safari) প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আর্জিও এই পর্যায়ে খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলিকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আরাবল্লী পর্বতমালার সঠিক সংজ্ঞা নির্ধারণের মূল বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পের কোনো অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

হরিয়ানা সরকার এদিন আদালতে আবেদন জানায়, তারা তাদের ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ বা ডিপিআর (DPR) সংশোধন করেছে। ১০,০০০ একরের বদলে প্রকল্পটিকে প্রায় ৩,৩০০ একরে নামিয়ে আনা হয়েছে। রাজ্য সরকার চেয়েছিল আদালত নিযুক্ত সেন্ট্রাল এমপাওয়ারড কমিটি (CEC) যেন এই সংশোধিত ডিপিআরটি পরীক্ষা করে দেখে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমরা আজ কোনো কিছুর অনুমতি দেব না। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রস্তুত একটি সামগ্রিক রিপোর্ট যা আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারবে, তেমন কিছু না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আরাবল্লীকে স্পর্শ করতে দেব না।” তিনি বলেন, আদালত এই বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞ নয়, তাই তারা একটি স্বাধীন সংস্থার নির্দেশিকা মেনেই এগোতে চায়। এমনকি সিইসি-র (CEC) মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করানোর প্রস্তাবও আদালত নাকচ করে দেয়।

আদালত উল্লেখ করেছে, গত ২৯শে ডিসেম্বর, ২০২৫-এর এক আদেশে তারা আরাবল্লীর সংজ্ঞা সংক্রান্ত পূর্ববর্তী একটি রায় স্থগিত রেখেছে। সেই রায়ে বলা হয়েছিল, স্থানীয় সমতল থেকে ১০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার পাহাড়গুলোকেই কেবল ‘আরাবল্লী’ হিসেবে গণ্য করা হবে। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এই সংজ্ঞার ফলে ১০০ মিটারের নিচের পাহাড়গুলো খনি মাফিয়াদের কবলে চলে যাবে। বর্তমানে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি পুরো পর্বতমালাটির নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের কাজ করছে।

এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী হরিয়ানা সরকারের আইনজীবীকে সতর্ক করে বলেন, ডিপিআর তৈরি করা বা তা সিইসি-র কাছে পাঠানোই হলো সাফারি তৈরির প্রথম পদক্ষেপ, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধান বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, আরাবল্লী কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। হরিয়ানা থেকে রাজস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত এই পুরো পর্বতমালাটিকে একটি একক ভৌগোলিক সত্তা হিসেবে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বন পরিষেবা (IFS) কর্মকর্তা এবং এনজিও ‘পিপল ফর আরাবল্লীস’-এর করা পিটিশনের ভিত্তিতে এই শুনানি চলছিল। আবেদনকারীদের দাবি, এই বিশাল সাফারি প্রকল্প আরাবল্লীর ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের বিনাশ ঘটাবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসেই আদালত এই প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!